নিয়াজুল পিস্তল উঁচিয়ে আমাকে গুলি করতে আসে: আইভী

নিজস্ব প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ: সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘নিয়াজুল পিস্তল উঁচিয়ে আমাকে গুলি করতে এসেছিল। নিয়াজুল আমার থেকে মাত্র দুই গজ দূরে অস্ত্র হাতে নিয়ে তেড়ে এসেছে। এটা নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সাংবাদিকসহ শহরবাসী দেখেছে। কার নির্দেশে ইটবৃষ্টি হয়েছে? তিনি নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’

বুধবার নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

শামীম ওসমানের দিকে ইঙ্গিত করে আইভী আরও বলেন, ‘তিনি বলতে চাচ্ছেন হকারদের সঙ্গে আইভীর লোকজনের সংঘাত হয়েছে। তাহলে নিয়াজুল কে? সে কার লোক? তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে। নিয়াজুলকে ধরলেই তো সে কার লোক এবং কার নির্দেশে আমাকে হত্যা করতে এসেছিলো তা বেরিয়ে আসবে।’

আইভীর অভিযোগ, ‘আমাকে হত্যার জন্যই হামলা চালানো হয়েছে। চোখের সামনে নিজের দুই ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও কাছের কর্মীদের আঘাত করা হয়েছে। আমাকে মারতো। তাতে কোনও দুঃখ ছিল না। কিন্ত,নেতাকর্মীরা মার খেয়ে আমাকে রক্ষা করলো। তারা প্রচণ্ড মার খেয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। আমি আমার কর্মীদের মার থেকে বাঁচাতে পারিনি। এটা আমার কাছে অনেক দুঃখের, অনেক কষ্টের।’

পুলিশের প্রতি অভিযোগ করে আইভী আরও বলেন, ‘এক থেকে দেড়শ’ নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছে। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো বিষয়টি দেখেছে। আমার কর্মীরা তো নিরস্ত্র ছিল, কেন তাদের ওপর এই ন্যাক্কারজনক সশস্ত্র হামলা চালানো হলো? সন্ত্রাসী নিয়াজুলকে এখনও গ্রেফতার করা হয় নাই।’

শামীম ওসমানকে দায়ী করে তিনি আরও বলেন, ‘এক পক্ষ মারলো আর আমরা মার খেলাম। আগেরদিন শামীম ওসমান হকারদের উস্কে দিয়েছে বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তার ভাই এমপি সেলিম ওসমান হকারদের বিষয়ে আমাকে চিঠি দিয়েছে। আমি ওই চিঠির উত্তরও দিয়েছি। চিঠিতে তার প্রস্তাবনা ছিল। আমারও প্রস্তাবনা ছিল। আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান হতো। কিন্তু অন্য আসনের এমপি কেন হকার নিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু করলো। এখানকার এমপি তো সেলিম ওসমান। শহরের হকার বসবে কি বসবে না তা এমপি, আমি, ডিসি, এসপি বুঝবো। এখানে তো উস্কানি দেওয়ার কিছু নাই। চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট করে দিয়েছি। প্রয়োজনে সেই মার্কেট ১০ তলার করার পরামর্শ দিয়ে শামীম ওসমান আমাকে সহযোগিতা করার কথা বলতে পারতো। কিন্ত তা না করে তার লোক দিয়ে হামলা করালো। এখন হামলার ঘটনা হকারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলাচ্ছে শামীম ওসমান।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘এই প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণেই মঙ্গলবার আমার ওপর হামলা হয়েছে।’ তবে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

উল্লেখ্য, ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। এদিন দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নগরীর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র আইভী। এই সিদ্ধান্তে হকাররা প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন জানান শামীম ওসমান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য রাখার ঘটনাও ঘটে। সবশেষ মেয়র আইভী নগরীর ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে তাদের আবারও ফুটপাথে বসানোর ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। এর প্রতিবাদে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে মেয়র আইভী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ চাষাঢ়া এলাকায় আসেন। তারা মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে।