২৮ বছর ডাকসুর ভোট গ্রহণ শুরু, কারচুপির শঙ্কায় কঠোর আন্দোলনের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: সব ধরনের শঙ্কা কাটিয়ে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে আজ সোমবার। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ২৮ বছর পর এই নির্বাচন হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে এ পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাত বার, যেটি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯০ সালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। কেননা, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও আবাসিক হলগুলোতে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী।

২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে তুমুল প্রতিযোগিতার চিন্তা করছে ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বামপন্থীদের প্যানেল প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য এবং স্বতন্ত্রসহ অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, মূলত লড়াইটা হবে কোটা সংস্কার আর ছাত্রলীগের ভেতরে।

তবে প্রগতিশীল ছাত্রঐক্যের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী একটু ভারি মনোভাব নিয়েই বললেন, ‘দেখা যাক আজ হয়তো সব ইকুয়েশন বদলে যেতে পারে। অনিয়ম হলে কোনো রকম ছাড় হবে না। ভালো কিছুই হোক সেই আশা প্রকাশ করছি। না হলে অন্দোলন হবে কঠোর।’

কিন্তু বিজয় ছাড়া ভাবতে চাইছে না বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হলে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পাব আমরা। আর ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম করে জেতার চেষ্টা করলে ভোট বাদ দিয়ে আজ থেকেই বিশাল এক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটবে এই বাংলাদেশে। ভোট বাদ দিয়েই সকাল থেকেই আন্দোলন গড়ে তুলব।’

ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন আবার বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ছাত্রলীগ কিন্তু উপরেই। হলের অধিকাংশ ভোট কিন্তু তাদেরই। ভোট সুষ্ঠু হোক, তবু আমরা জিতব। এখানে কোনো সন্দেহ নেই।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।