রাতে ব্যালটে সিল, ছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চলাকালে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিলযুক্ত ব্যালটের একটি বস্তা উদ্ধারের ঘটনায় ছাত্রীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ওই হলের প্রাধ্যক্ষ ড. শবনম জাহানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ।

এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. শবনম জাহানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিনকে নতুন প্রাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

রাতেই ব্যালটে সিল

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

এর আগে, সকালে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সিলযুক্ত ব্যালটের একটি বস্তা পাওয়ার পর ছাত্রীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করে। পরে ওই হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার ঘোষণা দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ।

ছাত্রীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, হলের পাঠকক্ষ থেকে আগেই সিল মেরে রাখা ব্যালটের একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আরও জানান, সেসব ব্যালটে ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মারা ছিলো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা প্রথমেই ওই হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছি।’

ব্যালটভর্তি বাক্স উদ্ধার

এদিকে, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদ নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আরশিয়া তাবাসসুম কাব্য সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা একটি ব্যাগ থেকে সিলযুক্ত ব্যালট বের করছেন। ভিডিওতে একটি নারী কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘রাতের বেলা এই ব্যালট পাওয়া গেছে।’

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট বিরতিহীনভাবে চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এই ভোটকে কেন্দ্র করে খুব সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট শুরুর পর ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। আর ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে মোট ২২৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি হলে নির্বাচিত হবেন ১৩ জন করে। সেই হিসাবে ১৮ হল সংসদে প্রার্থী রয়েছেন মোট ৫০৯ জন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।