বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও ভর্তি অনলাইনে

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের চলমান সাধারণ ছুটিতে উচ্চশিক্ষার ক্ষতি পোষাতে দুই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে। এরপর বিভিন্ন ধরনের ছুটি কমিয়ে ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ অন্যান্য কর্মদিবসে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষানো হবে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে লেখাপড়া পরিচালনা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি চালাবে ভর্তি কার্যক্রম। তবে সেমিস্টারের মূল্যায়ন বা পরীক্ষার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) একটি গাইডলাইন প্রকাশ করবে।

করোনাভাইরাসের চলতি ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পোষাতে করণীয় নির্ধারণী বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে।

চলতি ছুটি থেকে দৃষ্টান্ত নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের আপৎকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের অবকাঠামো ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

বিকাল ৪টার দিকে ত্রিপক্ষীয় এই ভার্চুয়াল বৈঠক শুরু হয়। এতে যার যার বাসা থেকে যুক্ত হন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল।

এছাড়া ইউজিসির তিন সদস্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র পরিচালকও এতে যুক্ত হন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ছুটিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি, লেখাপড়ার ক্ষয়ক্ষতি, ভবিষ্যতে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে আমরা (ইউজিসি) আগামী সপ্তাহে একটি নির্দেশনা জারি করব। এতে ছুটি প্রলম্বিত না হলে ক্যাম্পাসভিত্তিক সনাতনী ব্যবস্থার লেখাপড়া, পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম চালানো এবং প্রলম্বিত হলে কী করতে হবে সে ব্যাপারে বলা থাকবে।

জানা গেছে, বৈঠকে চলমান সঙ্কটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লেখাপড়ার ক্ষতি পোষাতে কী উদ্যোগ নিয়েছে আর কী করণীয় সে ব্যাপারে ভিসিরা বক্তব্য রাখেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, অনলাইনে লেখাপড়া চালিয়ে নেয়ার জন্য কী করা যায় সে বিষয়ে ইতিমধ্যে ডিনদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা শিগগির একটি প্রতিবেদন দেবেন। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের আর্থিক অবস্থার শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে। তাই চাইলে অনলাইনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা যায় না। তার এই বক্তব্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভিসিরাও একমত পোষণ করেন।

জানা গেছে, এ সময় ইউজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়- ৬-৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সক্ষমতা আছে। বাকিদের এই অবকাঠামো ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হবে। এ সময় আইবিএ পরিচালক বলেন, তারা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন এবং শতভাগ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইনে ক্লাস চালানো, ভর্তি ও পরীক্ষা নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সহযোগিতার জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে ইতিপূর্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির আবেদনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠানো হয়েছিল।

এছাড়া বৈঠকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে তাগিদ দেয়া হয়। এ সময় ইউজিসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা শেখ কবিরের উদ্দেশে বলেন, তাদের কাছে বেশকিছু লিখিত অভিযোগ এসেছে যে, অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে মার্চ মাসের বেতন আংশিক প্রদান করেছে। এছাড়া এপ্রিলের বেতন না দিয়ে ‘উইদাউট পে’ (বেতনবিহীন) করার ঘোষণা দিয়েছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি শেখ কবির যুগান্তরকে বলেন, আজকের আলোচনায় অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্লাস, ভর্তি পরীক্ষা সবই চলবে। আর দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিক সহযোগিতার জন্য স্বল্প সুদে ঋণের আবেদনের বিষয়টি আমি শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

তথ্য সূত্র: দৈনিক যুগান্তর