সুন্দরীর মেয়ের কুৎসিত রূপ!

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নই। কিন্তু আমি ভর্তি জালিয়াতির শিকার। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছি। সাহেদ ইসলাম ওরফে আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।’

এভাবেই জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার কথা স্বীকার করলেন এক ছাত্রী। জালিয়াতি ধরা পড়ে যাওয়ায় তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি আর কখনও এমন কাজ করবেন না এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ এক বছর ক্লাস করেন তিনি। বিষয়টি কেউ টের পায়নি। সম্প্রতি তিনি প্রথম বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে শিক্ষকদের বিষয়টি সন্দেহ হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

জানা গেল মাত্র ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই তাকে জাবিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন। এর পর দিব্যি তিনি একবছর ক্লাস করে গেছেন। অবশেষে ধরা খেয়ে মুচলেকায় ছাড়া পেয়েছেন ওই ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই ছাত্রী শেরপুর জেলার নালিতা বাড়ির মোস্তাফা আহম্মেদের মেয়ে। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছেন তিনি। তিনি জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে রোল নং ২২৩৮ বলে পরিচয় দিতেন। তবে সেটি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এক শিক্ষার্থীর আইডি বলে জানা গেছে।

প্রক্টর অফিসে স্বীকারোক্তিতে ত্বাকিয়া উল্লেখ করেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নই। কিন্তু আমি ভর্তি জালিয়াতির শিকার। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে নিচ্ছি। সাহেদ ইসলাম ওরফে আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, বিভাগীয় সভাপতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছি। ত্বাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। তাকে শাস্তি না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বলেন, ক্লাসে ত্বাকিয়ার কোন সঠিক রোল নম্বর ছিল না। কিন্তু সে অনুশীলনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সর্বশেষ ১ম বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে তার জালিয়াতির বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হয় এবং প্রক্টর অফিসকে অবহিত করি।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থী মোফসেনা ত্বাকিয়ার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভর্তি চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন হোসেন শাহেদকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন বোর্ডের মিটিংয়ের পর রাত ৯টার দিকে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে আল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে মোফসেনা ত্বাকিয়া বলেন, কলা ও মানবিক অনুষদের অপেক্ষমান তালিকা থেকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি করানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে আল-আমিন।

রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক জানান, জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করবে।

বহিষ্কৃত ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪২তম আবর্তনের ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ভুয়া পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে এক বছর ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘটনায় অভিযুক্ত মোফসেনা ত্বাকিয়াকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবারের সিন্ডিকেট সভা থেকে তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মোফসেনা ত্বাকিয়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অপেক্ষমান ছিলেন। ভর্তি না হয়েও পরবর্তীতে ওই ছাত্রী জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৪৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের সাথে এক বছর ক্লাস ও অনুশীলনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন।