মোস্তাকীনের স্বপ্ন একটি ভালো চাকরি

নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজশাহী: বয়সটা বেড়েছে। কিন্তু শরীর বাড়েনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও সামনে আসতে শুরু করলে চিন্তার কালো মেঘ নেমে আসতে শুরু করে মোস্তকীনের জীবনে। স্বপ্নপূরণে বাড়ে সংশয়। প্রত্যন্ত এলাকা আর অভাবি ঘরে জন্ম বলে লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও তা হয়নি। তার বয়সের সিঁড়ি এখন ৩৫টি। ১৪ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে সে চলে আসে রাজশাহীতে। জীবন চালাতে নেয় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গেইটম্যানের চাকুরি। মোস্তাকিনের স্বপ্ন একটি ভালো চাকরি পাওয়ার।

মোস্তাকীনের বাড়ি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার চরখিদিরপুরে।

মোস্তাকীন জানান, কৃষক পরিবারের সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের অসচ্ছল সংসারে যেখানে কাজ করেই চলতে হয়, সেখানে লেখাপড়া করা যেন বাড়তি সৌখিনাত মাত্র। আর তাইতো লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি তার।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও সামনে আসতে শুরু করে তার। সেই সাথে বাড়তে লাগল বাড়তি চিন্তা। অনিশ্চিয়তা হাত ছানি দিতে লাগল মোস্তাকীনের ভবিষ্যতকে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভারি কাজ করা সম্ভব হয় না তার। এক পর্যায়ে জীবনের তাগিদে মোস্তাকীন রাজশাহী শহরমুখি হন। ১৪ বছর আগে কাজের সন্ধানে রাজশাহীতে আসা। প্রথমে কাজ পেতে বেগ পেলেও এই শহর তাকে হতাশ করেনি। রাজশাহীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেনেট গেইটম্যান হিসেবে কাজ করার সুযোগ মেলে তার। ১৩ বছর থেকে এক প্রতিষ্ঠানেই নিষ্ঠার সাথে কাজে করে যাওয়া মোস্তাকীন এখন রাজশাহীর প্রায় সকলের কাছেই একটি পরিচিত মুখ।

স্বভাবে নম্র ও শান্ত মোস্তাকীন এখনো স্বপ্ন দেখেন ভালো ও স্থানী চাকুরির। যা তার সামনের জীবনে এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেবে একটি সংসার করার নিশ্চয়তা।

শরীর নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। কেউ হাসিঠাট্টা করে। কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসে না তার। প্রথম প্রথম রাগ হতো, মন খারাপও হতো। কিন্তু বিষয়গুলো এখন মজা হিসেবেই নেন তিনি।

মোস্তাকীন জানান, অনেক কষ্টে তার জীবন চলে। ভালো চাকুরি নেই বলে বিয়ে করা হয়নি তার। এখনো তিনি চেষ্টায় আছেন একটা ভালো চাকুরি পাওয়ার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।