রিয়াদে আরো এক বাংলাদেশিকে হত্যা!

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: সৌদি আরবে আরো এক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকায় রাস্তার ওপর আবদুল আজিজ মাতব্বর নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত আবদুল আজিজ মাতব্বর শরীয়তপুরের পালং থানাধীন সুজন দহল গ্রামের নূর মোহাম্মদ মাতব্বরের ছেলে।

আজিজের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। তিনি সিফা সানাইয়া এলাকায় আসবাবপত্রের ব্যবসা করতেন। ২০ বছর ধরে তিনি রিয়াদে বসবাস করছেন।

রিয়াদে অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক আতিকুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সৌদি আরবে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় মাঈন উদ্দিন শাহ আলম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। সৌদির আল খারিজ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত হাজী শাহ আলমের ছেলে।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর নিহতের বাড়িতে আসার পর বৃহস্পতিবার দিনভর এলাকার লোকজন শোকাহত মাঈন উদ্দিনের বাড়িতে ভীড় জমায়।

নিহতের ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন জানান, মাঈন উদ্দিন সৌদি আরবের রিয়াদ শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরবর্তী আল খারিজ নামক স্থানে ভাড়ায় একটি দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে দোকানে একদল ছিনতাইকারী হানা দেয়। ছিনতাইকারীরা দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় মাঈন উদ্দিন তাদের পিছু ধাওয়া করে হাইওয়ে রাস্তায় গেলে দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে কিং খালিদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দিন বুধবার রাতে নিহতের খালাতো ভাই সুমন মোবাইল ফোনে ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। এতে নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

বৃহস্পতিবার দিনভর এলাকার লোকজন নিহত মাঈন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানায়। নিহত মাঈন উদ্দিন ৩ ভাই ১ বোনের মধ্যে বড় ছিল। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অবিলম্বে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে নিহতের পরিবার বাংলাদেশস্থ সৌদি দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সৌদি জোটের সম্মেলনে বাংলাদেশ
ঢাকা: সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক সামরিক সন্ত্রাসবিরোধী জোটের (আইএমসিটিসি) সম্মেলনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। রিয়াদে ৪১টি মুসলিম দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের নিয়ে শুরু হয়েছে এ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলন।

রবিবার রিয়াদের একটি হোটেলে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা।

মূলত মতাদর্শ, যোগাযোগ, জঙ্গি-সন্ত্রাসী অর্থায়ন এবং সামরিক এই চারটি বিষয়ে জোটের সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে একত্র ও সমন্বয় করার জন্য কাজ করবে। সন্ত্রাসবাদের হুমকি, যা মুসলিম ও অমুসলিম দেশগুলোকে তিগ্রস্ত করছে এবং ইসলামের ভাবমর্যাদাকে বিকৃত করছে, তা নিয়ে কাজ করবে আইএমসিটিসি।

রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহম্মেদ সিদ্দিক।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্সনীতি অনুসরণ করে। বাংলাদেশ তার ভূখণ্ড সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করার অনুমতি দেয় না। তারিক আহম্মেদ সিদ্দিক সম্প্রতি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের ইস্যুটি সম্মেলনে উত্থাপন করেন।

রোহিঙ্গাদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের মূল কারণের বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।প্রতিরা উপদেষ্টা সৌদি আরবকে জোট গঠনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের নীতি ও সামর্থ্য অনুযায়ী অসামরিক খাতে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা ও সহযোগিতার মাধ্যমে জোটে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন দেশ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে আসা প্রতিরামন্ত্রীদের স্বাগত জানান। তিনি সম্প্রতি মিসরে মসজিদে বোমা হামলায় প্রায় ৩০০ মুসলিম নিহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় যুবরাজ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে বলে জানান।

ক্রাউন প্রিন্স বলেন, ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ছড়ানো সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার সবচেয়ে বড় বিপদ। আমরা এটা ঘটতে দেবো না। বিগত বছরগুলোতে সন্ত্রাসবাদ প্রায় প্রতিটি দেশে বিস্তার লাভ করেছে।

এখন থেকে এই জোটের সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একত্রে কাজ করবে। সামরিক, আর্থিক, গোয়েন্দা এবং প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেয়ার জন্য জোট একসাথে কাজ করবে।

বৈঠকে আইএমসিটিসির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল্লাহ আল-সালেহ জোটের কৌশল, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন।বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. নজরুল ইসলাম ও ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহআলম চৌধুরী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।