মৃত্যুর চিন্তা তসলিমার

তসলিমা নাসরিন: ৬০ বছর বাঁচবেন কি না এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেছেন, তার মা ৫৭ বছর, বাবা ৬৯, ছোটদা ৫৯, দাদা ৬৪ বছর বেঁচেছেন। তাদের পরিবারের কেউই ৭০ বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। এখন সামনে আর কেউ নেই, তিনি আর তার ছোট বোন।

তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি এক স্ট্যাটাসে এমন কথা বলেছেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

‘আমাদের পরিবারে ডাক্তার অনেক। কিন্তু কাছের মানুষদের আমরা কেউ বাঁচাতে পারিনি। মা’র কোলন ক্যান্সারের উপসর্গ ছিল স্পষ্ট, আমরা কেউ বুঝিনি, অথবা গ্রাহ্য করিনি। আমার ডাক্তার বাবা, আমিও ছিলাম ডাক্তার, আমিও, মা’কে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত, নিয়ে যাইনি। বাবা নিজে বড় ডাক্তার হয়েও নিজের রোগশোকগুলোকে মোটেও পাত্তা দেননি। বাবা-মা দুজনই অনেকটা চিকিৎসার অভাবেই মারা গেছেন।

ছোটদা যখন অসুখে পড়ল, পাশে পায়নি তার ডাক্তার মেয়েকে। আর দাদার (বড়দা) যখন হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে, দাদা ঘামছে, শ্বাস নিচ্ছে দ্রুত, ডায়াবেটিস থাকলে বুকে ব্যথা হয় না বলে বুকে ব্যথা হচ্ছে না, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার ডাক্তার ছেলে ইনহেলার দিল, কিন্তু দিল না যেটা দাদাকে বাঁচানোর জন্য দরকার ছিল, নাইট্রোগ্লিসারিন, অ্যাসপিরিন। অ্য়াম্বুলেন্স ডাকল দেরিতে, যেটা একেবারেই করতে হয় না, সেটা করল, দাদাকে হাঁটাচলা করতে দিল, হেঁটে হেঁটে দাদা অ্যাম্বুলেন্সে গিয়ে উঠল। দাদার পুত্রধন কি সিপিয়ার দিতে জানে? মনে তো হয় না।

আমাদের জিন ভালো নয়। জিনে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশান, ক্যান্সার। মা বেঁচেছেন ৫৭ বছর, ছোটদা ৫৯, দাদা ৬৪, বাবা ৬৯। আমরা ৭০ পর্যন্ত পৌঁছোতে পারি না। এখন সামনে আর কেউ নেই, শুধু আমি, আর আমার ছোট বোন। আমিও বাবার মতোই, ডাক্তার হিসেবে ভালো হলেও রোগী হিসেবে ভালো নই। ৬০ অবধি যেতে পারব তো?