মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলেননি, তাই অপুকে তালাক!

বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: সিনেমা পাড়ায় সংসার গড়া-ভাঙ্গন তো মামুনি ব্যাপার। এরপরও অপু-শাকিব খানের সংসার এতোটা দ্রুত ভেঙ্গে যাবে তা অনেকে ভাবতেও পারেননি। কেননা, নিজ ধর্ম ত্যাগ করে অপু তো শাকিব খানকেই ভালবেসে বেয়ে করেন। সংসারও গড়েন, বেবি নেন।

কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কেন ভেঙ্গে গেল তাদের সংসার এ প্রশ্নই এখন সবার।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ঢাকার চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা শাকিব খান তার অভিনেত্রী স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন।

শাকিব খানের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার মক্কেলের অভিযোগ তিনি স্ত্রীর কাছে চাহিদামত সমর্থন পাচ্ছেন না, ফলে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না।

আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানান, ২২ নভেম্বর শাকিব খান তাদের দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করে তালাকের নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। আইনজীবী জানান, অপু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তার অনেক অভিযোগের মধ্যে একটি ছিল – তার স্ত্রী গৃহকর্মীর কাছে তাদের সন্তানকে রেখে তালা দিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন।

আইনজীবী জানিয়েছেন, এই দাম্পত্য বিরোধের মীমাংসার জন্য দুজন ৯০ দিন সময় পাবেন। এই তালাকনামা চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে এই সময়ের মধ্যেই করতে হবে।

শাকিব বা অপু বিশ্বাস কারো সাথেই কথা বলা যায়নি। দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।

২০০৮ সালে এই তারকা দম্পতি বিয়ে করলেও, আট বছর ধরে বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন তারা।

কিন্তু এ বছর ১০ এপ্রিল হঠাৎ অপু বিশ্বাস তার ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে লাইভ টেলিভিশনে বিয়ের কথা ফাঁস করে দিলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এরপর শাকিব খান চাপের মুখে স্ত্রীর সাথে দুজনে সন্ধি করলেও, পত্র পত্রিকার খবর মতে, তাদের সম্পর্ক কখনই স্বাভাবিক হয়নি।

এরই মধ্যে মুসলিম রীতি মেনে বিয়ের পর গৃহিনী হয়ে না থাকার কারণ দেখিয়ে অপু বিশ্বাসকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

২২ নভেম্বর অপুর ঠিকানায় পাঠানো তালাকনামায় শাকিব খান এ কারণ দেখিয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের সময় ধর্মান্তরিত হয়ে অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে বিয়ে করেছিলেন। কথা ছিল তিনি মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলবেন ও গৃহিনী হয়ে থাকবেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস সে কথা রাখেননি।

তালাকনামায় শাকিব অভিযোগ তোলেন, পুত্রসন্তান জয়কে বাড়িতে গৃহকর্মীর সঙ্গে তালাবন্ধ রেখে ‘ছেলেবন্ধুকে নিয়ে’ দেশের বাইরে যান অপু।

গতমাসের মাঝামাঝিতে ওই ঘটনার পর একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন ।

শাকিবের তালাকের নোটিসে বলা হয়েছে, ছেলেকে তালাবন্ধ করে রাখার খবর শুনেই অপুর বাসায় ছুটে যান তিনি। কিন্তু সন্তানকে উদ্ধার করতে না পেরে পরে থানায় জিডি করেন।

তবে অপু বিশ্বাস বিষয়টি অস্বীকার করে সে সময় গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তিনি চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। ছেলে জয়কে কাজের মেয়ের কাছে নয়, বড়বোনের কাছে রেখে গিয়েছিলেন।

ছেলেকে ভারতে না নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিলেন, কলকাতার শীতের কারণেই ছেলেকে রেখে গিয়েছিলেন।

আইনজীবী বলেন, এসব ঘটনার কারণেই শাকিব খান অপুকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসের ঢাকার বাসা ও বগুড়ার ঠিকানায় রেজিস্ট্রি করা হলফনামা আকারে তালাকনামা পাঠানো হয়।

পরবর্তী প্রক্রিয়া জানতে চাইলে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়ম হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সালিশি পরিষদ দুজনকে ডেকে নিয়ে বসবে যেন সংসারটি ভেঙে না যায়। যদি শাকিব খান তারপরও মনে করেন এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তবে ৯০ দিন পর তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।

সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ছেলের জন্মদিনে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শাকিব খান। এছাড়া প্রতিমাসে ছেলের ভরণ-পোষণ বাবদ কমপক্ষে তিন লাখ টাকা দেন।

দেন মোহরের সাত লাখ টাকা অপু বিশ্বাস চাইলে যে কোনো সময় দিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান এই আইনজীবী।

২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শাকিব-অপুর জুটি গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। গতবছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তাদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সেসব তারা আড়ালেই রেখেছিলেন।

অপু গত এপ্রিলে সন্তান কোলে টেলিভিশন লাইভে এসে সেই খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি নাটকীয়তার জন্ম দেয়। শাকিব খান এ নিয়ে শুরুতে বিভিন্ন রকম কথা বললেও পরে তাদের মধ্যে মিটমাট হয়ে যায়। তার মাস দুয়েকের ব্যবধানে দু’জনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। পুত্র জয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে শাকিব খানের ছবি না থাকা ও অনুষ্ঠানে শাকিবের অনুপস্থিতির কারণে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।