শুভেচ্ছায় সিক্ত নতুন কমিটি, আশা জাগিয়েও হারলেন মৌসুমী

বিনোদন ডেস্ক: অবশেষে সকল নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান হলো বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে। আবারো সমিতির নেতৃত্বে এলেন সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তাদের প্যানেলের সবাই জয়ী হয়েছেন। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর থেকে শিল্পী-কলাকুশলী থেকে চলচ্চিত্রের অন্যান্য কলাকুশলীরাও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন শিল্পী সমিতির নতুন কমিটিকে।

সভাপতি পদে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন জায়েদ খান।

প্রথমবারের মতো শিল্পী সমিতির নির্বাচন করলেন মৌসুমী। ওমর সানী নির্বাচন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সভাপতি পদে লড়েন মৌসুমী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মৌসুমীর জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই এবার নির্বাচন তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি করে দেয়।

মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান পূর্ণ প্যানেল নিয়ে জয়লাভ করায় বিএফডিসিতে আনন্দের জোয়ার বইছে মিশা-জায়েদ প্যানেলের সবার মধ্যে।

এদিকে মিশা-জায়েদ প্যানেলের জয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নাইম-শাবনাজ। মিশা-জায়েদের প্যানেলের সাফল্যে প্যানেলের বিজয়ী সবাইকে অভিনন্দন জানান তারা। শুধু তাদের নয়, যারা জয়লাভ করতে পারেননি তাদের জন্যও শুভকামনা জানিয়েছেন। নাঈম-শাবনাজ জানান, শিল্পীরা পরিবারেরই অংশ। আগামী দিনে নাইম-শাবনাজ সমিতির জন্য আরো উন্নয়নমূলক এবং কল্যাণকর কাজ করার প্রত্যাশা রাখেন মিশা-জায়েদসহ তাদের পূর্ণ প্যানেলের কাছে।

এবার নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে বেশ আলোচনায় আসেন আলেকজান্ডার বো। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩৩৭টি ভোট। অন্যদিকে এবার নির্বাচন করেন অরুণা বিশ্বাস। ৩১৫ ভোট পেয়ে কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে বিজয়ী হন তিনি।

সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত মনোয়ার হোসেন ডিপজল পেয়েছেন ৩১১ ভোট, মাসুম পারভেজ রুবেল পেয়েছেন ২৯৩। তাদের সঙ্গে নানা শাহ পরাজিত হয়েছেন ৯৮ ভোট পেয়ে।

সহ-সাধারণ সম্পাদ পদে ৭১ ভোট পাওয়া সাংকু পাঞ্জাকে হারিয়েছেন ২৮১ ভোট পাওয়া আরমান। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ২৪৭ ভোট পেয়ে জিতেছেন চিত্রনায়ক ইমন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ পেয়েছেন ১০৫ ভোট।

সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাকির হোসেন ২৩০ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার সঙ্গে অভিনেতা ডন পেয়েছেন ১২২ ভোট। কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে বিজয়ী ১১ জন হলেন অঞ্জনা সুলতানা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী , বাপ্পারাজ, মারুফ আকিব ও রোজিনা।

এদিকে অনেক আশা জাগিয়েও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারলেন না চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নারী সভাপতি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন এই নায়িকা।

ভোট গণনা শুরু হওয়ার পরও বারবার এসেছে মৌসুমী এগিয়ে আছেন। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় জানা গেল ১০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর।

ভক্ত-দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে মৌসুমী থাকলেও ২২৭ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন তার প্রতিদ্বন্দ্বী মিশা সওদাগর। মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট।

এদিকে কেন হেরে গেলেন মৌসুমী সেই আলোচনা চলছে দিনভর। আলোচনায় ঘুরেফিরে এসেছে শিল্পী সমিতির ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার রাজনীতি। অনেকে এটাকে ‘ব্যাড পলিটিক্স’ বলেও অভিহিত করছেন। তবে রাজনীতির মাঠে ভোটার টানতে এ রাজনীতিকে স্বাভাবিক বলেই মানছেন অনেকে।

এবারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ মুহূর্তে শিল্পী সমিতির ভোটার তালিকায় দেখা যায় ব্যাপক পরিবর্তন। পুরনো ১৮১ জন সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয় মিশা-জায়েদ প্যানেলের ফেভারে থাকা একঝাঁক ভোটার। যেখানে নবাগত নায়ক-নায়িকাদের পাশাপাশি আছেন ফাইটারদের সমিতি ও নৃত্যশিল্পীদের সমিতির সদস্যরা। ফাইটার আরমান ও নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুলের নেতৃত্বে এই দুই সংগঠনের ভোটাররা মিশা-জায়েদ প্যানেলকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অভিনেতা ওমর সানি বলেন, প্রকৃত শিল্পীরা মৌসুমীকে ভোট দিয়েছেন এই বিশ্বাস আমার আছে। কিন্তু শিল্পী সমিতিতে আরও দুটি অংশ রয়েছে, যেগুলোর সদস্যরা নির্বাচনে ভাইটাল ভূমিকা রেখেছে। তারা হলো নৃত্যশিল্পী ও ফাইটের লোকজন।

এদের মধ্যে ফাইটের যে গ্রুপটা রয়েছে তাদের কাছ থেকে আমরা ভোট পাইনি। এরা নির্বাচনের সময় সবাই মিলে এক হয়ে যায়। এদের কীভাবে তারা ম্যানেজ করেছে সেটা আমি বলতে চাই না। নির্বাচনের আগে তারা একটা ভোটব্যাংক বানিয়ে নিয়েছে। হেরে যাওয়ার এটা অন্যতম কারণ।

তবে হেরে গেলেও বিজয়ীদের জন্য শুভকামনা রাখছেন ওমর সানি। মৌসুমীকেও তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রতিবন্ধকতার মুখেও লড়াই করার জন্য।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। এবারের নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ৪৪৯ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৮৬ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৩৫২টি।

এবার সভাপতি মিশা সওদাগরের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান। তিনি হারিয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।