কেমন আছে সেই ছোট্ট দীঘি

বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: দেখতে দেখতেই বড় হয়ে গেছে সেই ছোট্ট দীঘি। আব্বুর কাছে ময়না পাখির গল্প বলা তার সেই কচি কণ্ঠের কথা যেন আজো কানে বাজে। তবে এরই মধ্যে গত বছর জেএসসি (অষ্টম শ্রেনী) পরীক্ষা শেষ করে দীঘি।

শুরুতে গ্রামীণফোনের ময়না পাখি শিরোনামের একটি বিজ্ঞাপনে ক্ষুদে শিল্পীর ভূমিকায় মডেল হয়ে দেশে তুমুল হইচই ফেলে দেয় ছোট্ট দীঘি।

এরপরই লাইমলাইটে চলে আসা দীঘিকে নিয়ে এফ আই মানিক ‘চাচ্চু’ নামের ছবি নির্মাণ করেন। যা ঢাকাই চলচ্চিত্রে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয় দীঘিকে। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি হয়ে ওঠে সে বছরের সেরা ব্যবসাসফল ছবি।

কিন্তু দীঘি আপাতত অভিনয় থেকে দূরেই থাকতে চান। এরই মধ্যে তার অভিনীত সাড়া জাগানো সিনেমা ‘চাচ্চু ২’ নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এতে থাকছেন না দীঘি। তার জায়গায় নতুন কাউকে খোঁজা হচ্ছে, জানান ছবির প্রযোজক ডিপজল।

তিনি বলেন, দীঘি এখন বড় হয়েছে। তা ছাড়া অভিনয় থেকে আপাতত দূরে থাকতে চায় সে। তাই আমরা দীঘির পরিবর্তে অন্য কাউকে খুঁজছি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হবে ছবির শুটিং। আশা করছি, এর আগেই দীঘির মতো কাউকে পেয়ে যাব।

২০১০ সালে পি এ কাজল দীঘিকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’। সে ছবিও সফল হয়। এরপর দীঘি পর্দায় আসছেন না। ব্যস্ত রয়েছেন পড়াশোনা নিয়ে। এখন নবম শেষ করে দশম শ্রেণীতে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষা শেষে ফের সক্রিয় হবে চলচ্চিত্রে।

প্রথমে বিজ্ঞাপন করে নজর কাড়েন সবার। এরপর পাঁচ বছর বয়সে ২০০৫ সালে ‘কাবুলী ওয়ালা’ ছবি দিয়ে নাম লেখান বড় পর্দায়। প্রথম ছবিতেই অভিনয়ের জন্য পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর ধীরে ধীরে তিনি করেছেন ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘বাবা আমার বাবা’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র। বলা হচ্ছে জনপ্রিয় শিশুশিল্পী দীঘির কথা। তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ‘লীলা মন্থন’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালে। তবে এখন আর তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে নন, একজন শিল্পী হিসেবেই কাজ করার জন্য প্রস্তুত। তবে আদৌ তিনি কাজ করবেন কি না, সেটা তাঁর ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন বাবা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা সুব্রত বড়ুয়া।

২০১১ সালে দীঘির মা নায়িকা দোয়েল মারা যাওয়ার পর চলচ্চিত্র থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন দীঘি। পরে ২০১৫ সালে শোনা যাচ্ছিল তিনি শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা হয়ে চলচ্চিত্রে ফিরছেন। তবে সেটা ‘শোনা কথা’ হিসেবেই থেকে গেছে, বাস্তবে রূপ পায়নি। এর মধ্যে দুই বছর কেটে গেলেও দীঘি কোনো ছবিতে অভিনয় করেননি। আসলেই কি তিনি চলচ্চিত্রে ফিরবেন, ফিরলে কবে? এসব নিয়েই কথা হয় দীঘির বাবা সুব্রত বড়ুয়ার সঙ্গে।

প্রশ্ন : দীঘি কেমন আছেন?

সুব্রত : ভালো আছে, পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, অবসর সময়ে বই পড়ে আর ছবি দেখে সময় কাটে তার। ছবি দেখার প্রতি তার অনেক বেশি আগ্রহ। উপমহাদেশের ছবি বেশি দেখে। সমসাময়িক বাংলাদেশের বাংলা ছবিও দেখে প্রতিনিয়ত।

প্রশ্ন : এখন তো দীঘি নবম শ্রেণিতে পড়ছেন। পড়ার চাপ কেমন?

সুব্রত : ক্লাস নাইনে পড়ছে তাই এই সময়টা একটু বেশিই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সকালে স্কুল, তারপর প্রাইভেট, কোচিং নিয়ে দিন চলে যায়। ও সায়েন্সে পড়ছে, যে কারণে পড়ার চাপটা একটু বেশি।

প্রশ্ন : দীর্ঘ দিন দীঘি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন না, কেন?

সুব্রত : আমি চাই সে পড়াশোনা শেষ করে তারপর অন্য কাজ করুক। যে কাজই করতে চায় করুক, তার আগে অবশ্যই পড়াশোনাটা জরুরি। আসলে দেখেন চলচ্চিত্রে যারা পড়াশোনা করে এসেছে, তাদের কথা আমরা এখনো মনে রাখি। আর যে অশিক্ষিত লোক চলচ্চিত্রে নিজের প্রভাব তৈরি করেছে, সে বেশিদিন নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। আমি চাই আমার মেয়ে শিক্ষিত মানুষ হোক। আর চলচ্চিত্রে কাজ করে তা কিছুতেই সম্ভব নয়। ছোট পর্দায় কয়েকজন শিশুশিল্পী থেকে সিনিয়র শিল্পী হয়েছেন এমন কয়েকজনকে আমরা চিনি, যারা পড়াশোনা ও অভিনয় দুটোই করেছেন এবং তারা এখনো অভিনয় করছেন, কিন্তু পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। এমন কি স্কুলে থাকতে তাদের দু-একজনকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছিল। পরে অন্য স্কুলে গিয়ে নামমাত্র পড়াশোনা করেছেন। আমি আমার মেয়েকে এমন অবস্থায় দেখতে চাই না। যে কারণে সে এখন কাজ করছে না।

প্রশ্ন : চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব কি আসছে?

সুব্রত : হ্যাঁ আসছে, প্রতিনিয়তই আসছে। আবার অনেকেই স্ক্রিপ্ট নিয়ে বাসায় আসে। যেহেতু আমি ও দীঘির মা দুজনই চলচ্চিত্রের মানুষ, তাই যাঁরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, তাঁরা সবাই পারিবারিক ভাবেই আমাদের চেনেন। অনেকেই গল্প শুনানোর জন্য বাসা পর্যন্ত চলে আসেন।

প্রশ্ন : শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করা নিয়ে একটা কথা শোনা গিয়েছিল। এমন কি কথা হয়েছিল?

সুব্রত : আমি জানি না, এই খরবটা কোথা থেকে ছড়িয়েছে। আমি নিজেও খবরটা পড়েছি, কিন্তু খবরটা মিথ্যা ছিল। শাকিব খানের বিপরীতে তার কোনো ছবিতে কাজ করার কোনো কথা হয়নি। আমাদেরও এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রশ্ন : তাহলে কি চলচ্চিত্রে দীঘি ফিরছেন না?

সুব্রত : এখন সে ক্লাস নাইনে পড়ছে, এসএসসি পরীক্ষা শেষ করুক, তারপর চিন্তা করা যাবে। আমি তাকে বলেছি মেট্রিক পাস করার পর যদি সে চায় তাহলে সে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারবে। তবে আমার তরফ থেকে কোনো চাপ নেই। পুরোটাই তার ইচ্ছের ওপর নির্ভর করছে। আগামী দুই বছর সে পড়াশোনার বাইরে কোনো কাজ করবে না।