সুচিত্রা সেন: কত বিচিত্র তুমি হে বিচিত্ররূপিণী…

হাছান মীর: ১৯৫৭ সালের মাঝামাঝি, সবে ম্যাট্রিক পাস করেছি। কুষ্টিয়া শহরের পাক পিকচার প্যালেস সিনেমায় উত্তম-সুচিত্রা-বিকাশ রায়-পাহাড়ি সান্যাল অভিনীত ‘শাপ মোচন’ দেখে হল থেকে বের হওয়ার আগেই ছবির নায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রেমে পড়ে গেলাম।

আমার বেহাল দশা দেখে বন্ধু বিমল বললো: তোর এই এক দোষ, সুন্দরী মেয়ে দেখলেই প্রেমে পড়ে যাস। আরে বোকা, সুচিত্রা সেন তোর চেয়ে অন্তত দশ বছরের বড়, বয়সের প্রতি সম্মান দেখাবি না? তার অভিমত- বয়োজ্যেষ্ঠদেরও ভালোবাসা যায় কিন্তু সেই ভালোবাসার সাথে অবশ্যই শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। শ্রদ্ধা ছাড়া সত্যিকারের ভালোবাসা হয় না।

বিমলের কথা পছন্দ হলো। তারপর থেকে এই এতগুলি বছর মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রতি আমার শ্রদ্ধামিশ্রিত ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

আজ ১৭ই জানুয়ারি সুচিত্রা সেনের চতুর্থ প্রয়াণ বার্ষিক (জন্ম- এপ্রিল ৬, ১৯৩১। মৃত্যু- জানুয়ারি ১৭, ২০১৪)। চার বছর আগের এই দিনে তিনি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরলোকের যাত্রী হন।

জন্মসূত্রে রমা দাসগুপ্ত, পৈত্রিক নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা, বিয়ের পর (১৯৪৭ ) কলকাতায় স্থায়ী হন। স্বামী দিবানাথ সেন পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী। একমাত্র কন্যা মুনমুন সেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও বর্তমানে ভারতীয় লোকসভার সদস্য।

সুচিত্রা সেন বাংলা- হিন্দি মিলিয়ে ৬০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রথম ছবি- সাত নম্বর কয়েদী মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে আর শেষ ছবি- প্রণয়পাশা ১৯৭৮’ এ। তার অভিনয় জীবনের সময়কাল ২৫ বছর অথচ ১৯৭৮ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। এই রহস্যের কারণ জানা যায়নি।

আমি সুচিত্রা সেনের অনেকগুলি ছবি দেখেছি সিনেমা হলের বড় পর্দায় আর কয়েকটি পরবর্তীকালে টেলিভিশনে। স্মৃতি থেকে ছবিগুলির একটি খসড়া তালিকা করেছি — শাপমোচন , সবার উপরে, অগ্নিপরীক্ষা, সাগরিকা, হারানো সুর, সপ্তপদী, পথে হল দেরী, ঢুলি, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, উত্তর ফাল্গুনী, গৃহদাহ, দীপ জ্বেলে যাই, হসপিটাল, কমললতা, দত্তা, আলো আমার আলো, সূর্যতোরণ এবং হিন্দি দেবদাস, মমতা ও আঁধি।

আজ ১৭ই জানুয়ারি মহানায়িকার প্রয়াণবার্ষিকে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই আমার শ্রদ্ধামিশ্রিত ভালোবাসা।

লেখক: প্রাক্তণ বার্তা নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ বেতার।