ভোটের নামে তামাশা, সারাদেশে ক্ষমতাসীনদের সহিংসতায় প্রাণ গেল ৭জনের

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: ভোটের নামে সারাদেশে নাটক মঞ্চস্থ করেছে সরকার। ক্ষমতাসীনদের দাপটের কোথাও দাঁড়াতে পারছে না বিরোধী জোটের নেতাকমী-সমর্থকরা। ভোটগ্রহণের আগেই সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরা, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া এবং কোথাও কোথাও বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদেরকে হুমকি দিয়ে সামনে নৌকায় সিল মারিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কমিল্লা, দিনাজপুর ও রাঙামাটিসহ সারাদেশে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৭জনের প্রাণহানি ও কয়েক শো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোনো কোনো স্থানে প্রার্থীরাও আক্রান্ত হয়েছেন।

রবিবার সকালে চট্টগ্রামের বাশখালিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে জাতীয় পার্টির কর্মী আহমেদ কবির এবং রাঙামাটির কাউখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় এক যুবক নিহত হয়েছেন।

ভোটগ্রহণের আগেই দেশের তিন জেলায় শনিবার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলিতে ক্ষমতাসীন দলের তিনজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার মধ্যরাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া গ্রামে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হয়েছে।

একই রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় সুনামগঞ্জে আ’লীগ কর্মী এবং চট্টগ্রামে যুবলীগ কর্মী খুনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় রাকিব হোসেন ও জহির নামের স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাদেরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, সদর উপজেলার বড়ালিয়া গ্রামের বড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে বেশ কয়েকটি ফাঁকা গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা।

এসময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনে রাজশাহীর মোহনপুরের পাকুড়িয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সামনে মেরাজউদ্দিন (২২) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে বিএনপির কর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটগ্রহণ চলাকালে তিনটি আসনে সহিংসতায় একই পরিবারের ছয়জনসহ নয়জন আহত হয়েছেন।

সকালে এসব ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, মোহনপুরে বিএনপির কর্মীরা আওয়ামী লীগের ওই কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুর্গাপুরের (রাজশাহী-৫) বখতিয়ারপুর গ্রামে ভোট দিতে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হন। তারা হলেন বখতিয়ারপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান (২৯), তাঁর বাবা আফসার আলী (৫৫), মা মনোয়ারা বেগম (৪৭), ভাই আরিফুজ্জামান (২২), বোন জেসমিন নাহার (৩২) ও মামী রুনুফা বেগম (৩৫)।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আফসার আলী ছাড়া বাকি পাঁচজনকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁরা সবাই বখতিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের (রাজশাহী-২) অন্নদাসুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিএনপি-কর্মীরা ভোটারদের স্লিপ দিচ্ছিলেন। এ সময় দৃর্বৃত্তরা তাদের কয়েকজনের মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। এতে পাঁচ-ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেলাল উদ্দিন ও মাসওয়ার আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

সকাল ১০টার দিকে নওহাটার (রাজশাহী-৩) পূর্বপাড়ার পুঠিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলার শিকার হন হাবিব মিয়া (৪৫)। তিনি পেশায় স্বর্ণকার। তাকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) আসনের এক ভোটারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সকালে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের মুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের অদূরে এ ঘটনা ঘটে।

বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে এক ভোটার ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন।

এ সময় কেন্দ্রের ৫০০ গজ দূরে ছাত্রলীগের লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করেন, কই যান? জবাবে তিনি বলেন, ভোট দিতে।

এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, ভোট হয়ে গেছে, আপনি চলে যান। তখন বাচ্চু বলেন, আমি আমার ভোট দিয়েই যাবো। তখন ছাত্রলীগ নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চুকে হকিস্টিক দিয়ে মারতে থাকেন।

একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ফেলে চলে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বাচ্চু ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম তার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সরবরাহ করা সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারাদেশে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা। ভোটগ্রহণের আগেই সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরা, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া এবং কোথাও কোথাও বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদেরকে হুমকি দিয়ে সামনে নৌকায় সিল মারিয়ে নেয়ার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্ট খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো প্রার্থীর এজেন্ট কেন্দ্রে ঢুকার পথে অপহৃত হয়েছেন। আবার অনেককে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। এ ধরনের খবর সারাদেশ থেকে আসছে।

ঢাকা-৪ আসনের (ডেমরা-শ্যামপুর) বিএনপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ছুরিকাঘাতের শিকার হন তিনি।

সালাউদ্দিনের ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকালে শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে আমার বাবাকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে। এতে বাবা গুরুতর জখম হয়েছেন। প্রথমে তাকে আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শ্যামপুর জোনের এসি ফয়সাল মাহমুদ এ বিষয় বলেন, সালাউদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তেমন কোনো আলামত পাইনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য কতগুলো সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে তা না জানানো হলেও, ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই এ ধরনের পরিচয়পত্র বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুমিল্লা ও লালমনিরহাটে কর্মরত প্রথম সারির গণমাধ্যমের অনেক সাংবাদিককে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। তাদের দাবি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও এনটিভি’র কুমিল্লা প্রতিনিধি কোনো পরিচয়পত্র পাননি।

নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য কয়েকদিন আগে থেকে ইসি সচিবালয় এবং প্রতিটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের এসব পরিচয়পত্র প্রদান করেন।

২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে ইসি সচিবালয় ঘুরে ‘সাংবাদিক পরিচয়পত্র’ ও ‘মোটরগাড়ির স্টিকার’ সংগ্রহের জন্য অনেক লোককে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

শনিবার পর্যন্ত ইসির পক্ষ থেকে কতগুলো পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, এখন এই সংখ্যা জানানো সম্ভব নয়। আগামীকাল (আজ) বলা যাবে।

নাম না জানানোর শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী জানান যে তারা সাংবাদিকদের জন্য ইস্যুকৃত ‘নাম ও পরিচয়বিহীন’ পরিচয়পত্র পেয়েছেন।

তাদের একজন বলেন যে, তিনি এ ধরনের ২০০ পরিচয়পত্র পেয়েছেন। সেগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম লিখে পূরণ করে দেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, নির্দেশ মোতাবেক আমি এগুলো পূরণ করেছি। প্রতিষ্ঠানের নামের জায়গায় আমার ইচ্ছেমতো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নাম বসিয়ে দিয়েছি।

ঢাকা-১৫ আসনে ৭০ টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। এখন পর্যন্ত ২০ জন ধানের শীষ এজেন্টকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক অপহরণ ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

ধানের শীষ প্রতীকের মিডিয়া সমন্বয়ক মু. আতাউর রহমান সরকার এই অভিযোগ করে বলেন, মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজ ব্রাঞ্চ-৩ কেন্দ্রে, ইব্রাহিমপুর সালাউদ্দিন শিক্ষালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের যুবলীগ নেতা আলমগীরের কার্যালয়ে আটকে রেখেছেন।

তাছাড়া মিরপুর আদর্শ স্কৃুল , রোটারী স্কুল এন্ড কলেজ, মমতাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কিন্ডার গার্ডেন, ইব্রাহিমপুর প্রাাথমিক বিদ্যালয়, চেরি গ্রামার স্কুল, হলি চাইল্ড কিন্ডার গার্ডেন, হাজী আলী ইউসুফ স্কুলে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়া শেরেবাংলা নগরের হালিম ফাউন্ডেশনের তিনটি কেন্দ্র আওয়ামীলীগ সভাপতি বেলাল হোসেন ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রে ঢাকা মেট্রো-১২২১৩৩ গাড়ি ব্যবহারকারী মেজিস্ট্র্যাট, ১১০০০৫ গাড়ির বিজিবিকে জানানো হলেও তার কোনো প্রকার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেছে।

এর আগে গতরাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের কর্মীরা লাইট অফ করে ও কেন্দ্রের পাশে থাকা বাড়িগুলোর সিসি ক্যামেরা জোরপূর্বক খুলে নিয়ে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে। স্থানীয় পুলিশ ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেও এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান আতাউর রহমান সরকার।

রাতে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা কাফরুল এর ১৩ সেকশন আল জাহরা কেন্দ্র, আদর্শ স্কুল, মিরপুর-১০ এর পূর্ব দিকে ১৩নং হাজী আলী হোসেন স্কুল, পশ্চিম শেওড়াপাড়া ইস্ট ওয়েস্ট স্কুল, ইউনানী আইয়ুবেদী মেডিকেল কলেজ, আবুল হোসেন স্কুল, মনিপুর বালক স্কুল ও মনিপুর বালিকা স্কুল ভবনের মোট ৫০ টি কেন্দ্র দখল করে ভোট কেটে নেয় তারা।

ঢাকা-১ আসনের একটি কেন্দ্র নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। এই কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের এজেন্টকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সালমান এফ রহমানের লোকদের ধাওয়া দিতে দেখা যায়।

কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে। এর মিনিট দশেক পর বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের কয়েকজন এজেন্টকে নিয়ে আসেন নাঈম নামের এক ব্যক্তি। তিনি এসেছিলেন সেখানে এজেন্ট ঠিক করার জন্যে।

এমন সময় একটি মাইক্রোবাসে চড়ে কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রের সামনে আসেন। তারা চিৎকার করে নাঈমকে বের হয়ে যেতে বলেন। নাঈম বের হয়ে এলে ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী সালমান এফ রহমানের লোকজনরা তাকে ধাওয়া দেয়।

এছাড়াও, এই কেন্দ্রে সাংবাদিকরা ঢোকার চেষ্টা করলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা খান আসলাম আলী তাদেরকে বাধা দেন এবং দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু, সাংবাদিকদের সেখানে অবস্থান করার অধিকার নির্বাচন কমিশন দিয়েছে- তা জানালে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এখানে থাকা যাবে না। আপনারা কোনো প্রকারের সমস্যা করবেন না।

অবশেষে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে তিনি তাদেরকে কেন্দ্রে অবস্থান করতে দিতে রাজি হন।

এখানে অবস্থান করে দেখা গেছে- এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম। অনেকেই বলেছেন, সকালে ঠাণ্ডার কারণে এখন ভোটারদের অংশগ্রহণ কম রয়েছে।

ভোটারদের একজন মোহাম্মদ জুলহাস (৬৫) জানান, ভোট দেওয়ার জন্যে পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অপেক্ষা করেছি। আশা করেছিলাম তাড়াতাড়ি ভোট দিয়ে বাসায় চলে আসবো। কিন্তু সেখানে ভোটগ্রহণ শুরু হয় ২০ মিনিট দেরিতে।

এদিকে চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনের কিছু কেন্দ্রে নৌকা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের এজেন্ট নেই। চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম- ১০ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের ১০-১২ টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে নৌকা ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট নেই।

চট্টগ্রামের লালখান বাজারের একটি ভোটকেন্দ্রে (চট্টগ্রাম-১০) সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটের দিকে বিবিসি সংবাদদাতা অধিকাংশ ব্যালট বাক্স পূর্ণ দেখতে পান।

এ বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেন নি।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোটারদের হুমকি দিয়ে সবার সামলে নৌকায় সিল মারিয়ে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা।

এদিকে নির্বাচনে সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে। মধ্যরাত থেকে এ পর্যন্ত ৪জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর কিছুক্ষণ পর পাশের একটি ডোবায় যুবকটির মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও আওয়ামী লীগ নেতা আহসানুল কবির রিপন জানান, অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের কর্মী নিহত ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। তার লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আহত দু’জনকে পুলিশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

একই রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় সুনামগঞ্জে আ’লীগ কর্মী এবং চট্টগ্রামে যুবলীগ কর্মী খুনের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ওসি নিয়ামত উল্লাহ বলেন, গুরনখাইন এলাকায় রাত ১০টার দিকে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে যুবলীগকর্মী দ্বীন মোহাম্মদকে হত্যা করে।

নিহত দ্বীন মোহাম্মদের (৩৫) বাড়ি কুসুমপুরা ইউনিয়নের গুরনখাইন এলাকায়। দ্বীন মোহাম্মদকে মৃত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

তার ভাতিজা সাইফুর রহমান মামুন হাসপাতালে অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপিকর্মী রফিক, আরিফ ও আনিসের নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। এদিকে একই রাতে ‍সুনামগঞ্জে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বিএনপি কর্মীর আঘাতে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের মহিষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল ইসলাম (৪০) মহিষপুর গ্রামের সোনা মিয়া তালুকদারের ছেলে। এই খুনের ঘটনায় পুলিশ ওই গ্রামের জায়েদ আলীর ছেলে মিস্টার মিয়া ও তার স্ত্রী রোজিনাকে আটক করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, জয়শ্রী ইউনিয়নের মহিষপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম কিছুদিন আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

ধর্মপাশা থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বলেন, দায়ের হাতলের আঘাতে সাইফুলের মৃত্যু হয়েছে। মিস্টার মিয়া ও তার স্ত্রী রোজিনাকে আটক করা হয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি জোট দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে বলে দাবী করছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে পোস্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ক্যাম্প এবং বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, ধানবান্ধি মহল্লার বি.এল সরকারি স্কুল এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ক্যাম্পের কাছে পোস্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ক্যাম্পের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইফুলকে মারপিট করা হয়। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ধানবান্ধি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় আওয়ামী লীগের আরেকটি নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর চালানো হয়।

ওসি মোহাম্মদ দাউদ আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শহরে বিজিবির টহলও রয়েছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবুর রহমান জানান, বিএনপি সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে নৌকার দুটি নির্বাচনি ক্যাম্প ও দুটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ও শুভসহ ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, মামলা-হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অধিকাংশ পালিয়ে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ক্যাম্প ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ অবান্তর।

অন্যদিকে নোয়াখালী- ২ ও ৩ আসনের দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। হামলা ও নির্বাচনী সামগ্রী লুটের ঘটনায় এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের শরীফপুর ইউনিয়নের ১৩৩নং পূর্ব বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার রাতেই দুর্বৃত্তরা ভোটের সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। তাই আজ সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে নোয়াখালী-২ আসনের (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি আংশিক) সোনাইমুড়ি উপজেলার নাটেশ্বরী ইউনিয়নের মধ্য এবতেদায়ী নূরানী মাদরাসা কেন্দ্রেও হামলার ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার রাত ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসার সোনাইমুড়ি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও নির্বাচনী কর্মকর্তা শেখ ফরিদসহ সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আমাদের শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ভোটকেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

সকাল ৮টা ২৭ মিনিটে জেলার সদর থানায় দিশা প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি জীবনের প্রথম ভোট প্রদান করেন।

তিনি বলেন, জীবনে প্রথম ভোট দিয়েছি। আমার খুবই ভালো লাগছে। সুষ্ঠু ভোট হলে শেরপুর-১ এ ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে জানান, তার এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না, তাদের বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

আসনের ১০০টি কেন্দ্রেই এমন পরিস্থিতি বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, শেরপুর-১ আসনের ১৪০ কেন্দ্রের ৪০টিতে নিজেদের এজেন্ট দিতে পারেননি বিএনপি।

প্রসঙ্গত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া এক হাজার ৮৪৮ প্রার্থীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. প্রিয়াংকা।

‘৯৩ সালে জন্ম নেয়া ডা. প্রিয়াংকার বয়স এখন ২৫ বছরের কিছু বেশি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী হুইপ আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে লড়ছেন।

আমাদের খুলনা প্রতিনিধি জানান, সিল ছাড়া চারটি ব্যালট বাতিল করেছেন খুলনা-৩ আসনের সরকারি মোহসীন কলেজের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুল মোত্তালিব। বুথে ঢুকে কয়েকজন যুবক একসঙ্গে ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলছিল বলে এই সিদ্ধান্ত নেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

এই বুথের পোলিং কর্মকর্তা শরমিন সুলতানা বলেন, পাঁচ থেকে সাতজন যুবক বুথে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সাংবাদিকদের দেখলে তাঁরা পালিয়ে যান।

খুলনায় সকাল ৮টা থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে দেখা যায়। তবে কেন্দ্রের সামনে সব দলের ক্যাম্প নেই। অন্যদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে সব দলের পোলিং এজেন্টও দেখা যায়নি।

আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নগদা সিমলা ইউনিয়নের বাইসকাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজি আজিজ দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের বরিশাল প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৮টা। বরিশালের কাউনিয়া ব্রঞ্চ রোড এলাকায় মাতৃ মন্দির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। বাইরে ২০-২৫ জনের লাইন। কিন্তু কেউ নড়ছে না। ভেতরে কোনভাবে ঠেলে ঠুলে গিয়ে বুথের সামনে যেতেই চমকে উঠতে হল। এলাকার এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি যুবককে আনসারের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। জিজ্ঞাসা করতেই তিনি হেসে বললেন ‘এইতো’। বুথে ঢুকেই আরেকবার চমক। বুথের ভিতের ৮-১০ জন আওয়ামী লীগের লোক।

বিএনপির এজেন্টের চিহ্ন নেই। একজন ভোটার লিস্টে টিক দিচ্ছে। অপর কয়েকজন দ্রুত তা সিল মেরে বাক্সে ভরছে। মাত্র ১৫ মিনিটে একটি বই শেষ করা হল চোখের সামনে। এরপর একজন ভোটারের হাতে কালি মাখলেন পোলিং অফিসার। দিলেন ব্যালট। কিন্তু মুহুর্তে তা ছিনিয়ে নিয়ে অপর এক নেতা বাক্সে ভরে দিলেন।

তারপর বললেন যান, ভোট হয়ে গেছে। একই চিত্র কাউনিয়া এলাকার প্রায় সব কেন্দ্রে। লোকমুখে অবস্থা বুঝতে পেরে ভোটাররা ভোট দিতে বের হচ্ছেন না। ঢাকার একটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিক জানালেন একই চিত্র হালিমা খাতুন স্কুল কেন্দ্রে। বাইরে সুনসান। চ্যানেলের জন্য একটি লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা নড়ছে না। ভিতরে চলছে ভোট উৎসব। কোথাও কোন ঝামেলা নেই সব সুনসান।

এইতো গেল বুথের চিত্র। মোটরসাইকেল চলাচল ২৮ ডিসেম্বরের রাত থেকে বন্ধ। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ১৫-২০টি মটর সাইকেলের বহর ছুটছে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র। সামনে শুধু নৌকার স্টিকার। এভাবে ৫-৬টি বহর চোখে পড়ল সবার। সাধারণের ভোট কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে হেঁটে।

আমাদের ঠাকুরগাঁও জানান, নিজ নির্বাচনী আসনে পোলিং এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্ট মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে রোববার সকাল সোয়া ৮টায় ভোট দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার পোলিং এজেন্টদেরকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া রাতে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তার কাছে আমি পোলিং এজেন্টের তালিকা দিয়েছিলাম। সে তালিকা থেকে অনেককেই রাতেই পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জাল ভোটের খবর পাচ্ছি। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সহায়তায় জাল ভোট দিচ্ছে।’

সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শত বাধা আসবে ভোট প্রদানে। আপনারা সেসব বাধা পেরিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর ছয়টি আসনে শান্তিপুর্নভাবে ভোটগ্রহন চলছে। সকাল থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে জেলার ৬৯৫ কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।

রাজশাহী-২ সদর আসনের জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা। আর পলিটেকনিক কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু।

ভোট দেয়ার পর বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের বলেন, রাতেই রাজশাহীর ছয়টি আসনে ভোট হয়ে গেছে বলে আমার কাছে খবর রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে ৩৯টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারিনি। তার পরও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবো। ভোটের শেষ পর্যন্ত দেখবো।

মহাজোট প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রাতে দুইটি কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করে শিবির ক্যাডাররা। কিন্তু আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য গেলে তারা পালিয়ে যায়। বিএনপির প্রার্থী মিনুরা যে জঙ্গিবাদের জড়িত তার প্রমান আবার তারা দিয়েছে।

রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মিনুর অভিযোগের জবাবে বাদশা বলেন, পরাজয় জেনে শুধুমাত্র নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে মিনু এ ধরণের অভিযোগ করছেন। কারণ মানুষ জঙ্গিবাদের বিশ^াস করে না। জঙ্গিদের মদদদাতাদের ভোট দেবে না। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। নৌকায় ভোট দিচ্ছেন। বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহীতে মোট ভোটর সংখ্যা ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটের ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭১০ এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫২ জন।

আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, ভোট দেওয়ার পর সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের করা অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন মহাজোট প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

ভোট শুরু হওয়ার পর মেজরটিলা, পাঠানটুলা, আম্বরখানাসহ কয়েকটি এলাকায় ধানের শীষের এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের ব্যপারে ড. মোমেন বলেছেন- বিএনপি অভিযোগের দল। তারা সবসময় অভিযোগই তুলে।

তিনি বলেন- আমি নিজে নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সেগুলোতে আমি বিএনপির এজেন্টদের খোঁজ করেছি এবং তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

রবিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে দিকে নগরীর বন্দরবাজারস্থ দূর্গাকুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (দূর্গাকুমার পাঠশালা) ভোট দেন তিনি। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. মোমেন।