ব্যাপক সহিংসতা-প্রাণহানির ও বর্জনের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশব্যাপী ব্যাপক সহিংসতা, কারচুপি ও বিরোধি জোটের প্রার্থীদের ভোট বর্জনের হিড়িকের মধ্য দিয়ে শেষ হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। কিছুক্ষণ আগে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

দেশব্যাপী বিরোধি জোটের অনেক প্রার্থীই অনিয়ম, কারচুপি ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে সারাদেশের জনগণ।

এর আগে রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলেছে।

ভোটগ্রহণের সারাদিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে সারাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোট বর্জনের হিড়িক পড়েছিল।

এ পর্যন্ত স্বতন্ত্রসহ বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং জাতীয় পার্টি অর্ধশতাধিক প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন। এখন পর্যন্ত যেসব আসনে ভোট বর্জনের খবর পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-১, ১৭, মাদারীপুর-৩, খুলনা-১, ৩, ৫ ও ৬, নীলফামারী-২ ও ৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ফেনী-১, ২, ও ৩, কুমিল্লা-১১, ঠাকুরগাঁও-২, গাইবান্ধা-১, যশোর-১ ও ৪, চট্টগ্রাম-৪, নোয়াখালী-২।

নির্বাচন বয়কট করা প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই ২০ দলীয় জোট কিংবা ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। এর বাইরে আছেন ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদের এমপি সালমা ইসলাম ও যশোর -৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মো. জহুরুল হক।

জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জনের কথা জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ২২ জন নির্বাচনে লড়াই করেছেন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। আর ৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা লড়াই করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৭ জানুয়ারি।

এবার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন ভোটারের জন্য মোট ৪০ হাজার ১৮৩টি নির্বাচনী কেন্দ্র, দুই লাখ ছয় হাজার ৭৭৭টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।