সেনাবহিনী পুলিশ বিজিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং বিরোধীদের অভিযোগ!

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত করলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সচিব, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সেনাপ্রধান জে. আজিজ আহমেদ, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিবায়াত, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল নিজামউদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পুলিশের পক্ষ থেকে আইজিপি মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শুভেচ্ছা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আগত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এটা আরেকটি বড় বিজয়। ক্ষমতা আমার কাছে ব্যক্তিগত কিছু নয়, ক্ষমতা আর কাছে হলো দেশের মানুষের সেবা করা, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো। বিজয়ের জন্য তিনি দেশবাসীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত নির্বাচন।

এই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করে বিএনপিকে হারানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি পুনঃনির্বাচন দাবি করে বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

সোমবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নজিরবিহীনভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচন করেছে সরকার। তাই আমরা এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি। আবার নির্বাচন করতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কখনো এভাবে নজিরবিহীনভাবে নির্বাচন হয়নি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে থেকেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। নির্বাচনের আগেই আসন ধরে ধরে ভৌতিক মামলা হয়েছে। সেই মামলা ধরে ধরে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই মামলায় বিরোধী দলকে আটকানোর জন্য গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। সারা দেশে সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস শুরু করে। এর মাধ্যমে গোটা দেশে ভীতির পরিবেশ তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘এমন নির্বাচন অতীতে আর কখনো হয়নি এ দেশে। এমনকি সারা দেশে টার্গেট করে এজেন্টদের আটক করা হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে জাল ভোট দিয়ে কারচুপি করা হয়েছে। এর সাথে র্যা ব পুলিশ সহায়তা করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোটের দিন সকালেও কেন্দ্র দখল করেছে। কিছু কেন্দ্রে ১১টা পর্যন্ত ভালো রেখেছে, কিন্তু যখন দেখল ভোটাররা বেরিয়ে আসছে তখনো সেটি দখলে নিয়েছে। এসব কাজে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো সহায়তা করেছে। তারা সব সময় বিরোধী দলকে তাড়ানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। অনেক জায়গায় তারা আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করেছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া ২০১৪ সালে ভোটে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা সঠিক ছিল। এবার তা প্রমাণিত হয়েছে।’

এজেন্টদের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এজেন্টদের যে তালিকার কাগজ ছিল সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে। সিইসি এজেন্টদের বিষয়ে যা বলেছেন তা সঠিক নয়। আমাদের এজেন্টদের না আসতে দিলে আমরা কী করব?’

তিনি আরো বলেন, ‘এ নির্বাচনে আগেই পরিকল্পনা করে রাখা হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট কারচুপির বিষয়টি আগে থেকেই ছিল সুপরিকল্পিত। ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে ভোটের আগের রাতে। এ নির্বাচনে জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এ নির্বাচনে ভীতি ছাড়া কিছু ছিল না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ নির্বাচনে কোনো বিদেশি পর্যবেক্ষক ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষকদের আসতে দেওয়া হয়নি। আর ইইউ তাদের কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। যারা এসেছে তারা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত। সরকার নিজের টাকায় তাদের নিয়ে এসেছে।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ফখরুল বলেন, আমরা জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি জুলুম নির্যাতন সত্ত্বেও।

শপথ নেবেন কি না জানতে চাইলে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো এ নির্বাচনের ফলাফলই প্রত্যাখ্যান করছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দাবি আদায়ে লিগ্যালি ও আন্দোলনের দুটোই চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি থাকবে। দল ও জোটের সাথে আলোচনা করে সেটি জানিয়ে দেওয়া হবে।’