নির্বাচনের এমন ফলাফলে হতবাক আওয়ামী লীগ-বিএনপি, ভোটের হিসাব মিলাচ্ছে উভয়পক্ষ!

নিউজ ডেস্ক : নির্বাচনের ফলাফল দেখে অবাক হয়েছে খোদ ক্ষমতাসীনদের এমন বিজয় আর বিএনপি জোটের এমন ভরাডুবির কথা ভুলেও ভাবেনি তারা। সরকারের টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার টার্গেট, প্রশাসনের অতি তৎপরতা, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং চাপের মুখে থাকা বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার কারণেই ফলাফল এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

রোববার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট মাত্র সাতটিতে জয় পায়। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট পায় ২৮৯ আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে তিনজন নির্বাচিত হন তারাও ক্ষমতাসীন জোটেরই। নির্বাচনের এমন ফলাফল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে সব মহলে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট এমন ফলাফলকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেছে। অন্য দিকে বিএনপি জোট ইতোমধ্যেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের ব্যবধান এমন হবে তা ক্ষমতাসীনদের কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দলের বিভিন্ন ফোরামে বিএনপি জোটের ৫০ থেকে ৭০ আসনের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় আলাপ-আলোচনা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সেই আলোচনা ২৫ থেকে ৩০ সিটে নামে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি আওয়ামী লীগ জোটের ২২২ আসন পাওয়ার কথা বলেন। বাকি আসনগুলোর কথা সরাসরি বলা না হলেও বিএনপি জোট ৭০ থেকে ৮০ আসন পেতে পারে বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে জয় সর্বশেষ তথ্য দিয়ে বলেন, বিএনপি জোট ৩০টি আসন পাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। তার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিএনপি জোট হয়তো ২৫ থেকে ৩০টি আসন পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও সরকারের চতুর্মুখী তৎপরতায় সব জল্পনাকল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিএনপিকে মাত্র সাত আসনে বন্দী করা হয়। এটি ছিল সবার ধারণারও বাইরে।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনির্ধারিত বিভিন্ন আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত করে কথা বলতেন। তবে বিএনপি জোট কত আসন পাবে তা কোনো সময় শেয়ার করতেন না তিনি। নির্বাচনের নানা কৌশল নিয়েও নেতাদের সাথে খোলামেলা কথা বলতেন না। সেজন্য আওয়ামী লীগের বিজয়ের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী-পর্যায়ের সব নেতা নিশ্চিত থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের সর্বোচ্চ আসন সম্পর্কে কারোরই চূড়ান্ত ধারণা ছিল না। তবে বিএনপি জোট সাত আসন পাবে এটা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কেউ।

সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী-পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, বিএনপি জোটের কোণঠাসা অবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি তৎপরতা, দেশের সর্বত্র সরকারসমর্থিত নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সর্বোপরি বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে নানা প্রচার-প্রচারণার কারণেই এমন ফলাফল এসেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের কোনো ‘ম্যাকানিজমই’ কম ভূমিকা পালন করেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ম্যাকানজিম নির্দেশনার চেয়েও বেশি তৎপর ছিল। সেজন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের ফলাফলেও এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে; যা আমরা নিজেরাও বিশ্বাস করতে পারছি না।

দু’জন নেতা বলেন, সংসদ এবং মন্ত্রিসভা বহাল রেখে নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার বড় ধরনের কৌশল। এ কারণে তিনি প্রার্থী মনোনয়নে দশম জাতীয় সংসদের এমপিদেরই প্রাধান্য দেন। কারণ, তিনি জানতেন, এমপি এবং মন্ত্রীরা স্বপদে থাকলে প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও বিশেষ আনুকূল্য পাবেন। আর শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে।

পরাজয় নিয়ে বিএনপির কী বিশ্লেষণ
নিউজ ডেস্ক: ভোটের আগের দিন রাত ১০টায় নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আশঙ্কা ছিল- ‘ভোটের আগের রাতেই আওয়ামী লীগ ৩০-৪০ শতাংশ-ভোট ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে রাখবে। আর এটি করা হবে র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায়।’ নির্বাচনের ফলাফল দেখে স্তম্ভিত বিএনপি সেই আশঙ্কাকেই এখন সত্য বলে মনে করছে।

বগুড়া-৬ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের পর পুরো বিষয়টি মূল্যায়ন করেছেন এভাবে- ‘কিভাবে শক্তি ব্যবহার করতে হয় রাষ্টযন্ত্রকে, তার এক নতুন নমুনা দেখলাম আমরা। আমরা কখনোই এ রকম নির্বাচন অতীতে দেখিনি। যেখানে পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসনসহ সবাই মিলে নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগ তো গৌণ। মূল কাজ করছে পুলিশ আর র্যাব।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপারটা হচ্ছে, এখানে একটি ইনস্টিটিউশন হিসেবে নির্বাচন জিনিসটাকেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। একদম ধ্বংস হয়ে গেল। মানুষের আস্থা পুরোপুরি চলে গেল।’

বিএনপির কমপক্ষে ১০ জন প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের ফল কী হতে যাচ্ছে তা ভোটের দিন সকালের দিকেই বুঝে গিয়েছিলেন তারা। দুপুরের আগে ও পরে এ কারণেই কমপক্ষে তাদের ৮০ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। ধানের শীষের প্রার্থীদের ভাষায়- ‘নির্বাচন উৎসবের বদলে র্যাব-পুলিশ দিয়ে পুরো পরিবেশটাই চরম ভীতিকর করে ফেলা হয়। বেশির ভাগ প্রার্থীই ছিলেন অবরুদ্ধ। নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রের আশপাশেই ভিড়তে পারেননি। দিনভর কেন্দ্রের বাইরে যাদের জটলা ছিল, তারা সবাই নৌকার সমর্থক। নিজেরাই নিজেদের সিল মেরে বিজয়ী করেছে।’

সম্ভাব্য ফল জেনেও কেন্দ্রীয়ভাবে কেনো নির্বাচন বর্জন করা হয়নি এ প্রশ্নের উত্তরে দলের শীর্ষ এক নেতা বলেছেন, কেবল বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকই নয়; ফলাফলের পার্থক্য দেখে পুরো দেশবাসী স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ। দলীয় ক্যাডার আর প্রশাসনিক কারচুপির মাধ্যমে কিভাবে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে, নির্বাচন বর্জন করলে সেটি সামনে আসত না।’

এক চরম বৈরী পরিবেশে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দলটি নির্বাচন বর্জন করেছিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পূরণ না হওয়ায়। এবার দলটি ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন একটি জোট করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে সাত দফা দাবি দিয়েছিল। কিন্তু এর একটি দাবিও মানেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে আসবে, সেই বার্তা আগেই ছিল আওয়ামী লীগের কাছে। এজন্য বিএনপির কোনো দাবির প্রতি ন্যূনতম কর্ণপাত করেনি তারা। বিগত নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপি ‘ভুল’ করেছে, এমন সমালোচনা এবং দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পক্ষের চাপ এবার অনেক বেশি ছিল বিএনপির ওপর। যার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দাবি আদায় না হলেও কেবল আশ্বাসের ওপর ভর করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল শেষ পর্যন্ত ছিল ‘রক্ষণাত্মক’। আন্দোলনের টাইমলাইন ঠিক করেও বারবার কৌশল পাল্টেছে দলটি। গেল বছরের মাঝামাঝিতে দলটির কৌশল ছিলÑ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ। অক্টোবর ও নভেম্বরে একটি বড় আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি নানামুখী চাপে। তৃণমূল নেতৃত্ব আন্দোলনের কর্মসূচি চাইলেও দলটির ভেতরের একটি পক্ষ আন্দোলনের পক্ষে ছিল না। এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোটকে ‘গুরুত্বহীন’ করে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রেও দলের ভেতরে মতপার্থক্য ছিল। তবুও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ড. কামালকে সামনে নিয়ে আসায় ‘কিছু একটা হবে’ ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের আচমকা সংলাপের ডাকে অংশ নিয়ে কোনো দাবিই আদায় করতে পারেনি তারা।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে প্রতিটি থানায় বিএনপি কমিটির তালিকা ধরে ধরে মামলা করা হয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এই মামলাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে মাঠছাড়া করেছে তাদের। নির্বাচনের প্রচারণাপর্বও ছিল একতরফা। ধানের শীষের অর্ধশত প্রার্থী হামলার শিকার হয়েছেন। যথাযথভাবে প্রচারণায় নামতে পারেননি কেউ। শেষ ১৫ দিনে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতার ছিল প্রতিদিনই। এমন পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরে অনেকের মত ছিল, শেষ দুই দিন তারা মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। নেতাকর্মীরা ‘ডু অর ডাই’ ভেবে মাঠে নেমে আসবে। কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফল বুঝে নিয়ে আসবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। সাংগঠনিক এমন শক্ত তৎপরতা নির্বাচনের মাঠে খুব একটা দেখা যায়নি। নির্বাচনের দুই দিন আগেও বিএনপি নীরব ছিল। অন্য দিকে, প্রার্থীরা যেখানেই গিয়েছেন মার খেয়েছেন। তবে সব কিছু ছাপিয়ে নির্বাচনের ফল তাজ্জব করেছে বিএনপিকে। দলটির এক নেতা বলেছেন, ‘প্রশাসনিক ম্যাকানিজমের এমন নির্বাচনে একদিন মাঠে নেমেও কি কোনো লাভ হতো?’

এদিকে ভোটের হিসাব-নিকাশ মেলাচ্ছে আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আগামী ৩ জানুয়ারি নির্বাচিত সব এমপি শপথ এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গঠন করা হবে মন্ত্রিসভা। ভূমিধস বিজয়ের পর আগামী পাঁচ বছর সরকারের পরিকল্পনা কী হবে সে নিকাশ-নিকাশ করছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে সারা দেশে নেতা-কর্মীদের আনন্দ উল্লাস না করে শুকরিয়া আদায় করতে বলা হয়েছে।

বিরোধীদের সঙ্গে কোন্দল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য, উন্নয়নে আস্থা, সঠিক মনোনয়ন, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের একক সমর্থন এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই বিশাল জয় এসেছে। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যে সাধারণ ভোটারদের কাছে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়াই নৌকা প্রতীকের বিজয়ী হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা কেন্দ্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়া আর নিজ দলের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা-এটা আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ের সহায়ক হয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু নির্বাচন নিয়েই হিসাব-নিকাশ করে না। পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে চিন্তা করে। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, আমরা দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, আমরা এসব নিয়েই ভাবছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চায় বলেই আমরা সবার সমর্থন পেয়েছি। সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পার হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দলীয় সভানেত্রী সিরিয়াস ছিলেন দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে। তাই তিনি বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে ছয় মাস অন্তর অন্তর জরিপ চালিয়েছেন নির্বাচনী এলাকায়। এ ছাড়াও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে ছিল। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, দুর্নীতির চিত্র।

ফলে তরুণ-তরুণীরা কেন্দ্রে ভোট দেয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। এটাও ইতিবাচক ফল দেয়। জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী কর্মকা মনিটরিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেখানেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল, তাদের বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ধানমন্ডিতে বসে দলের নির্বাচনী পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নেতারা। সবমিলে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে পরিকল্পিত কাজ করায় জয় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য, সরকারের উন্নয়নের কারণেই বড় জয় এসেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। অন্যদিকে আগুন সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতির কারণে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের জনগণ।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন করলে দেশের মানুষ যে সমর্থন দেয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তার প্রমাণ। গত দশ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার যে উন্নয়ন করেছে, দেশবাসী ভোটের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিয়েছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার সরকার গঠনের পর থেকেই জোর দিতে হবে সুশাসন নিশ্চিত করতে। সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানুষ বারবার আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। তারা বলছেন, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবার আওয়ামী লীগকে এককভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। অতীতে এমন সাপোর্ট কোনো সরকারই পায়নি। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কর্মকা ই নৌকার দিকে সাধারণ ভোট টেনে আনে। নতুন প্রজন্মও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পক্ষপাতী ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল আওয়ামী লীগ। আর তরুণ ভোটাররাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় বিশ্বাসী। এত বড় বিজয়ের পেছনে দলীয় নেতাদের বিরোধ ও বিদ্রোহী প্রার্থী কঠোর হস্তে দমনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে স্থানীয় নেতাদের দূরত্ব কমিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কাজ করার ফলেই নৌকার বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য দেশবাসী নৌকায় ভোট দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ। দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য, সব মহলের সমর্থন থাকার কারণেই আমাদের বিশাল জয় এসেছে। আগামীতে যেন এই যাত্রা অব্যাহত থাকে সে প্রত্যাশা দেশবাসীর কাছে।