কারচুপির প্রমাণসহ ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ প্রার্থীর ইসিতে স্মারকলিপি বৃহস্পতিবার বিকেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের তথ্য-প্রমাণসহ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশনে একযোগে স্মারকলিপি দেবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ প্রার্থী।

বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে করবেন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

গুলশান কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আবারও নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দাবি আদায়ে জোটের ৩০০ প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। এ জন্য ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ৩০০ প্রার্থীকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ধানের শীষের ৩০০ প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের। গত ৩১ ডিসেম্বর ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির পাঁচজনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত এমপি শপথ নেবেন কি-না, সে বিষয়ে এখনো একেবারে স্পষ্ট কিছু বোঝা যাচ্ছে না। যদিও নির্বাচনের পরদিন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন বিধায় শপথ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কেউ কেউ এখনো ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শেষ হয়ে যায়নি’ বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জিততে পারে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নিরঙ্কুশ এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আওয়ামী লীগ অভিনন্দনে সিক্ত হতে থাকলেও ঐক্যফ্রন্ট শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জেতানোর জন্য ব্যাপক কারচুপি-জালিয়াতি হয়েছে।

এরপর ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও পরে সন্ধ্যায় তাদের জোটের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কারচুপির প্রতিবাদে বিএনপি ও জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না। তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে অবস্থান জানিয়ে দেন।

সেদিন (৩১ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যেহেতু আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছি, সেহেতু শপথ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও জোটভুক্ত গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বুধবার বলেন, ‘শপথ নেওয়ার সময় বৃহস্পতিবারই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আর আমরা এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আছি শপথ নিচ্ছি না।’

বিএনপির নির্বাচিত সাত এমপি হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বগুড়া-৬ আসন), মোশারফ হোসেন (বগুড়া-৪), জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) ও হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)। আর গণফোরামের দুই এমপি হলেন- সুলতান মোহাম্মদ মনসুর (মৌলভীবাজার-২) ও মোকাব্বির খান (সিলেট-২)।

গুঞ্জন রয়েছে বিএনপির সদস্যরা শপথ না নিলেও গণফোরামের নির্বাচিত দুই জন সংসদ সদস্য শপথ নিতে পারেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দলের সাধারণ সম্পাদক মন্টু বলেন, ‘জোটগতভাবে নির্বাচন ও আন্দোলন করছি। এখনো জোটেই আছি। সুতরাং যা করার জোটগতভাবেই করবো। আলাদা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমি নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে ছিলাম। তবে নির্বাচন পরবর্তী সিদ্ধান্ত দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলতে পারবেন।’

সিলেট-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত গণফোরামের ‘উদীয়মান সূর্য প্রতীক’ নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, ‘যে এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে তাদের মতামতের বিষয় আছে। আমি একটা দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছি, সে দলের বর্ধিত সভা আছে ৫ জানুয়ারি। দলের সিদ্ধান্তেরও একটা বিষয় আছে। তাছাড়া শপথ গ্রহণ বৃহস্পতিবার শুরু হলেও ৯০ দিন সময় আছে, এর মধ্যেই ঠিক করা হবে আমি সংসদে শপথ নেবো কি নেবো না।

সবমিলেই বিজয়ীদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে এখানো চূড়ান্তে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।