নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম তদন্তে পক্ষপাতিত্বহীন কমিশন গঠন করুন: এইচআরডব্লিউ

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

বুধবার (২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস জানান, অনিয়মের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে বিরোধীদলীয় সদস্যদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট জালিয়াত ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ।

দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তারা আরো বলেছে, সহিংসতা, বিরোধীদের গণগ্রেপ্তার ও স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের পরে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্বাচনে পার্লামেন্টের ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়ী হয়েছে তার দল।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়টা ছিল বিরোধীদের ওপর সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন, বিরোধীদের প্রচারণা অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে। স্বাধীন মত প্রকাশকে সীমিত রাখতে আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনের দিনে ব্যালটভর্তি করা, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্র ক্ষমতাসীনদের দখলে থাকার অর্থ হলো নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন ও পক্ষপাতিত্বহীন কমিশন গঠন করা উচিত।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ও সহিংসতার ভয়ে সাংবাদিকরা তাদের রিপোর্ট সেন্সর করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সব অপারেটরকে থ্রিজি ও ফোর জি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। এতে যোগাযোগ ও তথ্য শেয়ার ব্যাহত হয়। নির্বাচনের দিনে সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়- বিরোধী দলগুলো, সাংবাদিক ও ভোটাররা অনিয়মের গুরুতর সব অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে, পোলিং এজেন্ট দিতে না দেয়া, ব্যালটভর্তি করা, ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়া, ক্ষমতাসীনদের ভোটকেন্দ্র দখলে রাখা ও ভোটারের ভোট দিয়ে দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পুলিশ দলীয় আচরণ করেছে, ভয়াবহ এক ভীতিকর পরিবেশে ভোটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে লঙ্ঘন অন্যতম।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংগঠনটি খুলনায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার, সাদা পোশাকে স্কুল ছাত্র গ্রেপ্তার, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকদের বৃহত্তর অর্থে বাংলাদেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করে।