শপথ অনুষ্ঠান বর্জন, প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য শোনার জন্য সারা দেশের ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক বসেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়েছে।

বৈঠকে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নিজ নিজ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন ছিল, সে বিষয়ে সব ধানের শীষ প্রার্থীর বক্তব্য শোনা হবে। পরে বিকেলের দিকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সবার বক্তব্য নিয়ে নির্বাচন বাতিল ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।

বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণফোরাম মহাসচিব মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরীসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী ২৯৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২২টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি পাঁচটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল দুটি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ দুটি, গণফোরাম দুটি, জাতীয় পার্টি—জেপি একটি এবং তরীকত ফেডারেশন একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে তিনজন স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করায় ফলও স্থগিত করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম মোর্চাসহ আরো বেশ কিছু দল নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে। তারা পুনর্নির্বাচনের দাবি তুললেও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছে।

এদিকে এরই মাঝে আজ বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথকক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপির পাঁচজন ও গণফোরামের দুজন সংসদ সদস্য আজ শপথ নেননি। তবে পরে তাঁদের শপথ নেওয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ, তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটভুক্ত দলগুলো এবং জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।