কারচুপি হয়েছে কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, পুনরায় ভোট হতে আপত্তি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: রবিবার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ২৯৯ আসনে বিতর্কিত ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বার তথা চতুর্থবারের মত নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি যোগ্য প্রার্থিদের মনোনয়ন দেয়নি। অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির ভোটের এই অবস্থা।

সোমবার গণভবনে ৩০ দেশের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসন পেয়েছে। এটা তাদের দোষেই হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি-সন্ত্রাস তাদের ভরাডুবির কারণ।’

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটে কোনো কারচুপি হয়নি। কেউই যদি প্রমাণ করতে পারে কারচুপি হয়েছে। তাহলে পুনরায় ভোট হতে তো আমাদের আপত্তি নেই।’

ভোটের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অগণিত মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। এটি অটোমেটিক স্লো হয়ে গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের জন্য রাজনীতি করলে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। আজকের পরাজিতরা যদি জনগণের জন্য রাজনীতি করে তাহলে তারাও আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে।’

বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ বিষয়ে আল জাজিরার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখুন। নির্বাচনের পরে কয় ঘণ্টা পার হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আমরা কিন্তু এখনও প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরূপ কোনো আচরণ করিনি। অথচ ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত আমাদের কর্মীদের মেরেছিল। নারীদের ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। আমাদের অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা কিন্তু তেমনটা করিনি। আমাদের নেতাকর্মীরা বিরোধী দলকে কোনো হয়রানি করেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি সবাইকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছি। আলোচনা করেছি। তাদের দাবি শুনেছি। যাতে করে তারা নির্বাচনে অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে আমাদের কর্মীদের হত্যা করেছে। নির্যাতন চালিয়েছে। আগুন লাগানো, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা বিএনপি-জামায়াতের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা কখনোই মেনে নেব না।’

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভিসা জটিলতা, ভিসা না দেওয়া তাদের আসতে না দেওয়া বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই রাজনৈতিক দলের সদস্য। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কারণে তাদের আসতে দেওয়া হয়নি।’

এই সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এনফ্রেল বাংলাদেশের নির্বাচনের আগের দিন একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের বিবৃতির ভাষা, মর্যাদাহানিকর। তাদের বিবৃতি, ভুল তথ্য ও অনুমান নির্ভর। এনফিল্ডের লোকাল চ্যাপ্টার হচ্ছে অধিকার। অধিকারের চেয়ারম্যান আদিলুর রহমান। এনফিল্ড ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে অ্যাডভোকেসি করছিল। তারা ভুল জায়গায় অ্যাডভোকেসি করেছে।’

সাংবিধানিক ধারা অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বর্তমানে বা পূর্বে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কেউ পর্যবেক্ষক হতে পারবে না।

{উল্লেখ্য, শনিবার এনফ্রেল ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫টি সংগঠন নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার নাগরিক সমাজ, বিরোধীদল ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান চালিয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোন প্রকারের আভাস পাওয়া যায়নি।}

নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশন স্বাধীন। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তারা যদি তদন্ত করতে গিয়ে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণায় এক মাস দেরি করতে চায় তাহলে তারা এটা করতে পারে। তাদের এ ক্ষমতা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আপনার প্রত্যাশা কী? এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করছি। তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আমার প্রত্যাশা, তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া। তারা কতদিন অন্য একটি দেশে শরণার্থী হিসেবে জীবন যাপন করবে?’

‘আন্তর্জাতিক মহলের উচিৎ তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা ও একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি।’

এদিকে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপ‌তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা ব‌লেছেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন ছিল। এ জন্য আমরা চেয়েছিলাম একটি ভালো বিরোধী দল হবে। কিন্তু একটি দল মনোনয়ন বাণিজ্য করলে তেমন বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।’

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে স্কাউটস, ব্যবসায়ী, ব্যাংকারসহ বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি অনেকটা আক্ষেপ করেই এ কথা বলেন।

বিএন‌পি ও ঐক্যফ্র‌ন্টের সমা‌লোচনা ক‌রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা ব‌লেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা শক্তিশালী অপজিশন খুবই দরকার। শ‌ক্তিশালী বি‌রোধী দল হ‌লে সরকা‌রের ভুলত্রু‌টি ধ‌রে দি‌তে পা‌র‌তো।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দুঃখজনক যে- একটা অপজিশন তাদের আচার-আচরণটা ছিল খুব পিক্যুলিয়ার। কারণ তারা যেভাবে নমিনেশন দিয়েছে, মানে এটা ঠিক ইলেকশন করার জন্য না।

শেখ হাসিনা বলেন, সত্তর সালে ২০ দলীয় ঐক্যজোট ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এখনকার অনেকে জানেই না। কারণ তখন অনেকের জন্মই হয়নি। ওই সময় তারা মাত্র দুইটা সিট পেয়েছিল, বাকি সব সিট জাতির পিতা পেয়েছিলেন নৌকায়। উনি (বঙ্গবন্ধু) জানতেন এটা পাবে। গোটা পাকিস্তানে কিন্তু আওয়ামী লীগ মেজরিটি পেয়েছিল। যাই হোক আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তি‌নি যে স্বপ্ন নি‌য়ে দেশ স্বাধীন ক‌রে‌ছি‌লেন সে স্বপ্ন তি‌নি বাস্তবায়ন কর‌তে পা‌রে‌ননি। আমরা তার স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত দা‌রিদ্র্যমুক্ত বাংলা‌দেশ গড়‌বো।

সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেছেন, আল্লাহর রহমতে আমার মনে হয়েছে এবারের নির্বাচনটা সেই সত্তর সালের যে নির্বাচন বা ৭৩ সালের যে নির্বাচন ঠিক সেই রকমই হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এবার মানুষের মধ্যে ভোট দেয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল। একজন বলছে ভোট দিয়েছে, বলে কাকে দিলা বলে নৌকায়। বলে প্রার্থী কে ছিল সে তো জানি না। আমি নৌকায় ভোট দিয়েছি। এটা দেখেছিলাম সত্তরের নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করতে যেয়ে। কাকে ভোট দেবে সেটা না, যে শেখ মুজিবের নাও (নৌকা), শেখের নৌকাতে ভোট দেবে।…নৌকা ছাড়া কিছু বোঝে না, শেখ মুজিব ছাড়া কিছু বোঝে না।

ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের সমর্থন আমাদের ভোট পেতে সহযোগিতা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন। একটাই লক্ষ্য আমার, আমার আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই। আমি কিছুই চাই না। বাংলাদেশের মানুষের ঘর হবে, তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। তারা রোগে চিকিৎসা পাবে, তাদের খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, নিরাপত্তা পাবে এটাই চাওয়া। মানুষের এই যে সমর্থন, ভালোবাসা; এটাই তো আমার সম্পদ, বাপ-মা, ভাই-বোন হারিয়ে আর কিছুই তো আমার নেই। এইটুকু আমি পাচ্ছি, এটা তো সবচেয়ে বড় পাওয়া।

তিনি বলেন, এই যে মানুষের বিশ্বাস, আস্থা। এই বিশ্বাসের মর্যাদা যেন আমি দিয়ে যেতে পারি, আল্লাহর কাছে সেই দোয়াটা করবেন।

বিবিসির প্রতিবেদন: চট্টগ্রামে বিবিসির ক্যামেরায় যেভাবে ধরা পড়লো ভোটের আগেই পূর্ণ ব্যালটবক্স
শাহনেওয়াজ রকি, বিবিসি: ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৮, সময় সকাল সোয়া ৭টা থেকে পৌনে ৮টা – চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের গেটের বাইরে ভোটার এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ভিড়।

এমন দৃশ্য বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয়, নারিসারবাদ বয়েজ হাই স্কুল, লালখান বাজারের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ সব কেন্দ্রের সামনে ছিল।

সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাড়ি যাবেন, লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না, অথবা প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছেন, ভোট দিয়ে একবারে বাসায় যাবেন – এই ভেবে চট্টগ্রামের অনেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই ভোটাররা জড়ো হয়েছেন।

অথচ ভোট গ্রহণ শুরু হতে তখনো খানিকটা দেরি আছে।

শহীদ নগর স্কুলের ঘটনা ধরা পড়ে যেভাবে
সকাল ৭টা ৫২মিনিটের দিকে আমি লালখান বাজার এলাকায় যাই।

বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে দেখা ভিড়ের তুলনায় চটগ্রাম-১০ আসনের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে লোকজনের জটলা বেশি মনে হওয়ায় অনেকটা উৎসুক হয়েই ওই কেন্দ্রের সামনে যাই ভোটকেন্দ্রে আসা লোকজনের সাথে কথা বলবো বলে।

যেহেতু এখনো ভোট গ্রহণ শুরু হয়নি তাই ক্যামেরা ট্রাইপড মাইক্রোফোন এসব গাড়িতে রেখে শুধু মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বের হই। গলায় নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া আমার পরিচয় পত্রটিও ছিলো, যা দেখিয়ে আমি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যেতে পারি।

গাড়ি থেকে নেমে দেখি ভোটাররা স্কুলের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, আর রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করছে।

গেটের দিকে যেতেই আমার জন্য তারা গেট খুলে দেন। তারা ধরে নিয়েছেন যে আমিও হয়তো রাজনৈতিক দলের কর্মী।

কেমন ছিলো ভোটকেন্দ্রের ভেতরের অবস্থা?
সময় সকাল ৭টা ৫৪ মিনিট – যেহেতু কয়েক মিনিট পরেই ভোটগ্রহণ শুরু হবে, তাই ব্যালটবক্সগুলো বিভিন্ন বুথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো।

কিন্তু অবাক হয়ে দেখি সবগুলোই ভর্তি!

দোতলায় প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে গিয়ে সেখানেও ব্যালটবক্স ভর্তি দেখতে পাই।

হাতে মোবাইল ফোন ছিলো। আর নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু জায়গা এবং মূহুর্ত ছাড়া সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করা যাবে না, তাই বিবিসির জন্য মোবাইল ফোনেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করি।

পরে এ ব্যাপারে ওই ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে জানতে চাই যে ভোটের আগে ব্যালটবক্স ভর্তি কেন। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। এমনকি কিভাবে এসব ব্যালট বক্স ভর্তি হলো, তাও তিনি জানেন না বলে জানান।

ওই সময় কেন্দ্রের ভেতরে থাকা রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বুঝতে পারেন যে তারা কোন রাজনৈতিক কর্মীকে নয়, বরং না জেনে বিবিসির একজন সংবাদদাতাকে তাদের কর্মী ভেবে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিয়েছেন।

এরপরই তারা আমাকে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

চট্টগ্রামে ভোটের আগে ব্যালট বাক্স ভরা পেলেন বিবিসি’র সাংবাদিক
সংবাদটি প্রচারের পর বেলা ৩টা নাগাদ ঐ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান বিবিসির সংবাদ প্রচারের পর তারা এই ব্যবস্থা নেন।