ভোট প্রাপ্তিতে সব রেকর্ড ভাঙলেন শেখ হাসিনা ও মাশরাফি

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে রেকর্ড করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ভোট নৌকায় তুলেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো নির্বাচনের ফলাফল শিট থেকে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৮ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ১৪১ জন ভোটার। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর এ আসনটিতে ৯৩ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

আর ২ লাখ ৩০ হাজার ১৪১টি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯টি ভোট। অর্থাৎ প্রদত্ত ভোটের ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি।

এ আসনে তিনি ৪ জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এসএম জিলানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১২৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এনামুল হক আপেল মার্কায় পেয়েছেন ১০ ভোট আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মারুফ শেখ হাতপাখা মার্কায় পেয়েছেন ৭১ ভোট।

এছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজীর ফকির সিংহ মার্কায় পেয়েছেন মাত্র ৪ ভোট। উজির ফকিরই একাদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।

এদিকে নড়াইল-২ আসনে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা রেকর্ড ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২১২ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। নড়াইলের ইতিহাসে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এত ভোটের ব্যবধানে এরআগে আর কেউ জেতেননি।

প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে দেখা যায় নৌকা প্রতীকে মাশরাফি পেয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৬ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামানত হারাতে চলেছেন।

প্রসঙ্গত, নড়াইল-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৮২ জন। জানা গেছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ভোট প্রয়োগ হয়েছে, যার ৯৬ শতাংশ ভোটই পড়েছে মাশরাফির নৌকার বক্সে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ছাড়াও এই আসনে নির্বাচন করা অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত ডা: এস এম নাসির উদ্দিন, আম প্রতীকে এনপিপি (ছালু) সমর্থিত মো. মনিরুল ইসলাম, মিনার প্রতীকে ইসলামী ঐক্যজোট সমর্থিত মো. মাহাবুবুর রহমান ও তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সমর্থিত ফকির শওকত আলী।

নতুন বছরের শুরুতে নতুন সরকার গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা শপথগ্রহণ করেছেন। এবারের শপথ অনুষ্ঠানে বড় চমক ছিল বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। খেলার মাঠ থেকে রাজনীতি মাঠে নাম লেখানো এই তারকা ক্রিকেটারকে কাছে পেয়ে মন্ত্রী এমপিরাও যেন ধন্য!

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার পর নতুন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করারন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শপথ শেষ হওয়ার পর সংসদ সদস্যরা যখন সংসদ সচিবালয়ের লেভেল-৩ এ সচিবের রুমে নিজ নামের পাশে স্বাক্ষর করতে ভিড় করছেন ঠিক তখনই মন্ত্রী, এমপিদের দেখা যায় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ঘিরে ছবি তোলার হিড়িক।

এই তালিকা থেকে বাদ যাননি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণও। মোট কথা যারা সংসদে প্রবেশ করেতে পেরেছিলেন তাদের সবার আগ্রহে ছিলেন মাশরাফি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবের হোসেন চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সংসদ সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয়, সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য নিজামউদ্দিন জলিল জনসহ সবাই তার সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুক টুইটারে পোস্ট করছেন।

মাশরাফি যখন সংসদে প্রবেশ করেন তখন বিসিবি সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন তাকে শপথকক্ষ পর্যন্ত নিয়ে যান। এসময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এভাবে মন্ত্রী-এমপিদের মাঝেও ‘তারকা’ মাশরাফির প্রথম দিন কেটে যায়।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের ২৯৯ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা-৩ আসনের একজন প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সে আসনে ভোটগ্রহণ হবে ২৭ জানুয়ারি। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ৩টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় সেখানে ৯ জানুয়ারি পুনর্ভোটের পর আসনটি ফল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

অবশিষ্ট ২৯৮ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি পেয়েছে, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে।

বিএনপি ৫টি আসন, গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছেন। আর স্বতন্ত্র থেকে ৩ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।