কুষ্টিয়া মেডিকেলের ভবনের ছাদ ধসে শ্রমিক নিহত, তদন্তে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে একজন নিহত এবং আরো ৭জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার শহরের ঢাকা রোড এলাকায় এই নির্মাণ কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ ধসে পড়ে একটি ভবনের নীচ তলার ছাদের সামনের অংশ। এতে এই হতাহতের ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিচে চাপা পড়া একজন জন জীবিত এবং আরেকজন মৃত অবস্থায় বের করে আনে। নিহতের তার নাম বজলু মিয়া। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চোরাইখোল গ্রামে।

আহত শ্রমিক ইশা খাঁ জানান, হঠাৎ করেই বিকট শব্দ করে ছাদের সাটারিং বসে যায়। নিচে দুইজন কাজ করছিলেন। তাদের একজন মারা যান।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক ফিরোজ কুতুবি এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন নির্মাণ কাজের ত্রুটিকে। ছাদ নির্মাণের সময় যে ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা ছিল, সেটা করা হয়নি। এ কারণে চাপ নিতে পারেনি খুঁটিগুলো।

গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহুরুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন এই ভবনটি নির্মাণের কাজ পেয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পর কেউ ঘটনাস্থলে আসেনি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।

এই অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ জাহানকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাঁচ তলা ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ভবনটির ছাদের পাশাপাশি মূল ফটকের কাজ চলছিল। দ্রুত কাজ করার জন্যই এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল হক দারা বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করছিল। হয়তো বা সাটারিং এ কোনো দুর্বলতার জন্য এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।’