অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার রায় দিয়েছে জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেবা করার যখন সুযোগ পেয়েছি তখন দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা করতে চাই। জীবন দিয়ে হলেও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিজয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিজয় অর্জন করা যত কঠিন তার চেয়ে রক্ষা করা আরো কঠিন। তাই দেশবাসীর আস্থার সম্মান রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করে যাবে সরকার, যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে আমাদেরকে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অন্ধকার থেকে আলোর পথের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই রায়কে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

বিজয় সমাবেশের বক্তব্যের শুরুতে ভোটার ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। এ বিজয় আপামর জনতার বিজয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ শক্তি সবসময় বিজয় অর্জন করে এই নির্বাচনে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। যারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দল, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই এই কারণে যে, তারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনকে অর্থবহ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব যখন নিয়েছি, সরকার গঠন করেছি। এরপর দেশের প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সবার সেবা করবে সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন অথবা দেন নাই তাদের সবার জন্যই কাজ করবে সরকার ।’

বিজয় রক্ষা করে জনগণের সেবা করার দায়িত্ব পালন করা বিজয় অর্জন করার চেয়েও কঠিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার রায় এটি। তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা জনপ্রতিনিধিদের মনে রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। আমি মা-বোন, নারীদের, তরুণ প্রজন্মকে, এদেশের কৃষক-শ্রমিক-কামার-কুমার-তাঁতীসহ সর্বোস্তরের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই; যারা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, যারা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা নিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনসহ তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে। আমরা এই দেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

এর আগে তিনি বিকেল ৩টার দিকে সমাবেশে যোগ দেন। শনিবার দুপুর ১২টায় গানে গানে এ সমাবেশ শুরু হয়। সকাল ১১টায় সমাবেশস্থলে প্রবেশের গেইট খুলে দেয়া হয়।

আড়াইটায় এই বিজয় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লোকারণ্য হয়ে উঠে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উদ্যান মুখরিত হয়।

নেতাকর্মীদের মধ্যে নারীদের পরনে লাল ও সবুজ রঙের শাড়ি এবং ছেলেদের বেশিরভাগ লাল ও সবুজ রঙের গেঞ্জি ও টুপি পরে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন।

বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, বিজয়ের এ দিনে মুজিব তোমায় মনে পড়ে, বারবার দরকার শেখ হাসিনার সরকার, যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা ইত্যাদি শ্লোগান দেন তারা।

এই বিজয় সমাবেশকে উপলক্ষে উদ্যানের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সমাবেশ মাঠে ছোট-বড় ৫০-এর বেশি নৌকা ও বৈঠাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়।

মূল অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। মহাসমাবেশে আওয়ামী লীগ ছাড়াও মহাজোটের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশের বিশাল প্যান্ডেলে প্রায় ত্রিশ হাজার চেয়ার বসানো হয় বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭ টি আসনে জয়লাভ করে।