বিয়ের এক বছর পর ইসলামে ধর্মান্তরের কাহিনী প্রকাশ করলেন ওসমান খাজার স্ত্রী রিচেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার এক বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম ক্রিকেট তারকা ওসমান খাজার স্ত্রী রিচেল ম্যাকলেলান (২৩) তার ইসলামে ধর্মান্তর যাত্রা সম্পর্কে পুরো বিবরণ প্রকাশ করেছেন।

২০১৬ সালে তাদের বাগদানের পর গত বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে কুইসল্যান্ডে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ অনুষ্ঠান হয়।

কিন্তু মিসেস খাজা এখন বলছেন, ২০১৭ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সময় নিকাহ নামে একটি বিশেষ ইসলামিক অনুষ্ঠানেও খাজাকে বিয়ে করেছিলেন।

মিসেস খাজা দ্যা কুরিয়ার-মেইলকে বলেন, ওই সময় তিনি ও তার স্বামী ব্রিসবেনের ডাইনিং টেবিলে অন্তর্বর্তী বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পাদন করেছেন যাতে তারা দুইজন একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন।

তিনি মিডিয়াকে বলেন, ‘ওই সময় খাজার পরিবারকে (সিডনি থেকে) পেয়েছি এবং আমার পরিবারও যোগ দিয়েছিল ওই অনুষ্ঠানে। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে আমাদের এই অন্তরঙ্গ অনুষ্ঠান একজন ইমাম পরিচালনা করেছিলেন। তাই বলা যায়- টেকনিক্যালি আমরা প্রায় দুই বছর আগেই বিয়ে করেছি।’

তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আমাদের অফিসিয়াল পুরো যাত্রায় ইমাম উজায়ের আকবরকে একজন ভালো বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম।

‘কখনও কখনও আপনি ভাল সময়ের প্রশংসা করার জন্য কঠিন সময়ের মাধ্যমে যেতে হয়’ বলে যোগ করেন তিনি।

মিসেস খাজা এটাও যোগ করে বলেন, তিনি এখনও সঠিকভাবে নামাজ পড়তে নিয়ম-কানুন ও আরবী ভাষায় কোরআনের সুরা-ক্বেরাত শেখার চেষ্টা করছেন। এবং এক্ষেত্রে তার স্বামী তাকে সবসময় সহায়তা করছেন।

২৩ বছর বয়সী রিচেল ম্যাকলেলান, যিনি ক্যাথলিক ছিলেন। দুই বছর আগে নিউইয়র্কে খাজার রোমান্টিক প্রস্তাবের পর থেকেই ইসলামে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।

২০১৬ সালের জুনে তার ২১তম জন্মদিনে সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঘোড়াগাড়ি যাত্রার সময় খাজার পক্ষ থেকে রোমান্টিক প্রস্তাবটি পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত বছর অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

বিয়ের এই দিনটির অনুভূতি নিয়ে নবদম্পতি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘হু’ ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাৎকারে উসমান খাজা তার নববধূর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ওই সময় জানিয়েছেন যে, রিচেল ইসলাম গ্রহণ না করলেও এটা তার জন্য ‘চুক্তি ভঙ্গকারী’ছিল না।

ওসমান বলেন, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম রিচেল নিজে থেকেই ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু সে যদি এটা নাও করত, তবু তার কাছ থেকে আমি কখনো আলাদা হতাম না।’

রিচেল অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং ২০১৭ সালে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।

রিচেল জানান, তার ইসলামে ধর্মান্তরের সিদ্ধান্তকে তার পরিবার ও বাবা-মা সমর্থন করেছেন। গত ২০১৭ সালের রমজানে তার মাও তার সঙ্গে উপবাস করেছিলেন বলে তিনি জানান।

উসমান স্বীকার করেন যে, তার বিয়ের দিনটিতে তিনি অশ্রুসিক্ত ছিলেন এবং রিচেলকে তার স্ত্রীকে হিসেবে পেয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিতবোধ করছেন।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের আংটি এখনো আমার হাতে সত্যিই রহস্যময় মনে হয়। রিচেলকে আমার স্ত্রী হিসেবে পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

গত বছর সানশাইন কোস্টের ম্যালেনি ম্যানরে এই দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ডিজাইনার জেসন গ্রেচের তৈরি করা একটি চমৎকার গাউন পরেছিলেন রিচেল।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে রিচেল ম্যাকলিলান জানিয়েছিলেন যে, খাজার সঙ্গে সাক্ষাত করার আগে ইসলামি বিশ্বাস নিয়ে তার মাঝে অনেক ভুল ধারণা ছিল। তিনি এর আগে কখনো কোনো মুসলমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। খাজাই ছিলেন তার সাক্ষাৎ করা প্রথম মুসলমান।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি উসমান খাজার চারপাশ সম্পর্কে খুবই অজ্ঞ ছিলাম, আমি তা স্বীকার করবো। খবরে যা শুনেছি আমি কেবল তাই জেনেছি। আমি যা শুনেছি, তার সবটাই ছিল সন্ত্রাসী এবং ভয়াবহ জিনিস।’

২০১৬ সালের জুনে নিউইয়র্কে রোমান্টিক ছুটি কাটানোর সময় খাজাই প্রথম তার একসময়কার বান্ধবী রিচেলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। রিচেল বিসব্রেনের একটি ধার্মিক ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ।

তাদের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার কারণে এই ব্যাটসম্যান বলছিলেন যে তিনি রিচেলকে তার জন্য ধর্ম পাল্টানোর জন্য কখনো কোনো চাপ দেননি এবং জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে রিচেল নিজেই নিয়েছেন।

রিচেল বলেন, ‘আমার ধর্মান্তরের জন্য খাজার কাছ থেকে কোনো চাপ ছিল না। এমনকি তার পরিবার থেকেও কোনো চাপ ছিল না। আমি শুধু জানতাম এটা তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

সূত্র: ডেইলি মেইল.ইউকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অনুদিত