সংস্কারের মতভেদ কিভাবে নিরসন করবে জামায়াত?

ডেস্ক নিউজ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত ইস্যু জামায়াতে চলমান বিরোধ। এই বিরোধ নিয়ে জামায়াতের কেউ মুখ না খুললেও সংস্কার প্রশ্নে যে দলটির ভেতরে দুটি গ্রুপে চাঙ্গা তা স্পষ্ট।

বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে দুজন নেতার পদত্যাগ ও একজনকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো নিয়ে অনেকটা নিরবে অল্প সময়েই ঘটে গেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার

সংস্কার এবং ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা জন্যে ক্ষমা না চাওয়ায় গত শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলটির অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। এরপরই সংস্কার প্রস্তাব যাতে মাথাচাড়া না দেয়, দল থেকে বরখাস্ত করা হয় আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রজমান মঞ্জুকে। তখন থেকেই ভীষণভাবে আলোচনায় এসেছে দেশটির মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত দলটির সংস্কার নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে দলটির ভেতরের মতভেদ কীভাবে কমবে?
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ কি ভেতরের দ্বন্দ্ব আরো বাড়িয়ে দিল?

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর আলী রিয়াজ বলছেন যে, দ্বন্দ্ব বেড়েছে কি-না সেটি বুঝতে আরও সময় লাগবে তবে ২০০১ সাল থেকে পারস্পারিক ভিন্নমতগুলো সেগুলো এখন অনেক বেশি খোলামেলা হয়ে দাঁড়ালো।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর থেকে জামায়াতের ভেতরে সংস্কার ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে যখন কথা হচ্ছিলো তখন সেটি বাইরে বলার মতো লোক ছিলোনা।

আলী রিয়াজ বলেন, আব্দুর রাজ্জাক বা মুজিবুর রহমান যা বলছেন তাতে তাদের প্রশ্ন করা যাচ্ছে। তারা এই সংস্কারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারছেন, যা দলটিতে আগে ছিলোনা। এখন কর্মী সমর্থকরা একটি ব্যাখ্যা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এখন বিষয়টি নিয়ে দল ও দলের বাইরে এসব বিষয়ে কথা বলার পরিস্থিতি তৈরি হলো। সংস্কারের প্রস্তাব জামায়াত গ্রহণ করতে পারে বা তারা হয়তো কিছুই নেবেনা। তা নাহলে রাজনীতি থেকে সরে আসা – এমন অনেক বিকল্প আছে।

অধ্যাপক আলী রিয়াজ মনে করেন না যে আব্দুর রাজ্জাক বা অন্যরা যে সংস্কারের কথা বলছে সেটি নেতৃত্বে যারা আছে তারা সেটি গ্রহণ করবে।

মিসর ও তিউনিসিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন তিউনিসিয়ায় আদর্শিক সংস্কার হয়েছে। আবার রাজনীতি থেকে সরে এসে সামাজিক কাজে জড়িত হয়েছিলো মুসলিম ব্রাদারহুড। তারা এখনো করেছে। হেজবুল্লাহ ও হামাস এটি করেছে।

জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন হলো ৭১ এর বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ই নয়। সংস্কারের বিষয়টা তাদের আদর্শিক অবস্থানের পরিবর্তন।

জামায়াত নেতারা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি কোন সংস্কার। তাহলে মওদুদীর যে পথ তা থেকে সরে আসতে হবে তাদের। সেটি করবেন কি-না – এসব আলোচনা আগেই হওয়া উচিত ছিলো। বহু ইসলামপন্থী দল এটি করেছে কিন্তু জামায়াত সেটি আগে করেনি।

অধ্যাপক রিয়াজ বলেন, শুধুমাত্র সাংগঠনিক সংস্কারে জামায়াত গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে মনে হয়না।