উত্তাপহীন নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট গণনা চলছে। এরই মধ্যে ফলাফল আসতে শুরু করেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রাপ্ত ৭০ কেন্দ্রের ফলাফলে আ.লীগ প্রার্থী ৪৬,২৮০ এবং জাপার প্রার্থী ১,৮৪০ ভোট পেয়েছেন।

কোনো ধরনের আমেজ কিংবা উত্তাপ ছাড়াই প্রায় সাড়ে ৩০ লাখ ভোটারের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটারদের দৃষ্টিতে ঢাকা সিটির ইতিহাসে এমন ভোট আর কখনো তারা দেখেনি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হয় এই সিটি করপোরেশনের মোট এক হাজার ২৯৫টি কেন্দ্রে।

গত দুদিনের ধারাবাহিকতায় আজও ভোর থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি হয়। এতে সকালবেলায় ভোটারদের কিছুটা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল সামান্য। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলেও ভোটারের উপস্থিতি সেই তুলনায় বাড়েনি।

অন্যদিকে, গত ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘অভিজ্ঞতার’ মূল্যায়ন করে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি, বাম দলগুলোসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। ফলে এই নির্বাচন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কোনো উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। তার রেশ ভোটারের উপস্থিতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডেও ভোট গ্রহণ হয়। এ ছাড়া দুই সিটির ১২টি সংরক্ষিত নারী আসনেও আজ ভোট নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসি উপনির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি থেকে শাফিন আহমেদ, বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) থেকে শাহিন খান, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নর্থ সাউথ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহিমের প্রতীক টেবিল ঘড়ি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আতিকুল ইসলাম উত্তরায় নবাব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। এর পরই তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বলেন, ‘অবশ্যই যদি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতো, যদি আরেকটি দল থাকত, অবশ্যই এই নির্বাচন আরো অংশগ্রহণমূলক হতো, এতে কোনো সন্দেহ নাই।’

মেয়র পদের আরেক প্রার্থী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ ভোট দেন গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। পরে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তারা হয়তো মনে করেন তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই। আর এ কারণেই ভোটাররা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না।’ তিনি আরো বলেন, ভোটারদের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবেই কম, আশানুরূপ ভোটার ভোটকেন্দ্রে আসেনি।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ভোট দিয়েছেন উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরে আইইএস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। পরে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার দায় রাজনৈতিক দলগুলোর। রাজনৈতিক দল বলতে যাঁরা প্রার্থী, তাঁদের দায়। আমরা তো পরিবেশ তৈরি করে দিই। ভোটার তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা আনতে পারব না।’

আরেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার রাজধানীর মগবাজারের ইস্পাহানী স্কুল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরে তিনি নির্বাচন গণমাধ্যমকে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত একই ইমারতে অবস্থিত পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে ১৫টি বুথে মাত্র ৩৮৫ জন ভোট দিয়েছেন। পাঁচটি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা নয় হাজার ৪১৩ জন। সরকারদলীয় মেয়র পদের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট সেখানে ছিলেন না।’

এ অবস্থার মধ্যেই আজকে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হয়েছে। বিকেল ৪টায় সেই ভোট শেষ হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আড়াই বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক লন্ডনে মারা যান। এতে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে দুই সিটিতে ২০১৭ সালে ১৮টি করে ৩৬টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর গত ২২ জানুয়ারি দুই সিটির তফসিল ঘোষণা করে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ডিএনসিসি মেয়র ও দুই সিটির ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৩৮২ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন পাঁচজন। দুই সিটিতে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিল পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩১০ জন। উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ছয়টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিল পদে প্রার্থীর সংখ্যা ৬৯ জন। এর মধ্যে ডিএনসিসির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১১৬ জন, সমসংখ্যক ওয়ার্ডে ডিএসসিসিতে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ১২৫ জন। অন্যদিকে ডিএনসিসির ছয় সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৪৫ জন এবং ডিএসসিসিতে ২৪ জন।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলর পদে দলীয় স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি, মোট ভোটকেন্দ্র এক হাজার ২৯৫টি এবং ভোটকক্ষ ছয় হাজার ৪৮২টি। এতে মোট ভোটার ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯১ জন। মেয়র পদে পুরো উত্তর সিটিতে নির্বাচন হচ্ছে। আর সাধারণ ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে এবং সংরক্ষিত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ছয়টিতে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হয়।