একজন আলোকিত মানুষের বিদায়, কাঁদছে সারা বাংলা

নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজশাহী: একজন আলোকিত মানুষ, যাকে সারা বাংলার সবাই আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে জানেন। গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বই পৌঁছে দেওয়া আলোর ফেরিওয়ালা সেই পলান সরকার আর নেই। চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

পলান সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হায়দার আলী।

১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করা পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। টাকা-পয়সার টানাটানির কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তাকে লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয়। তবে নিজের চেষ্টাতেই তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যান।

বইপাগল পলান সরকার স্থানীয় স্কুলে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের বই উপহার দিতেন। এখান থেকেই শুরু হয় তার বই বিলির অভিযান। এরপর তিনি সবাইকে বই দিতেন। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর নিজেই হেঁটে হেঁটে বই বিলি করতেন। টানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এ কাজ করেছেন তিনি।

নিজের টাকায় কেনা বই পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পলান সরকার ২০১১ সালে একুশে পদক পান। সেইসঙ্গে এ কাজের জন্য সারা দেশে তাকে অনেকবার সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাকে নিয়ে তৈরি হয় ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে একটি নাটক।

না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া তার জন্য কাঁদছে সারা বাংলার মানুষ।