বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি, শেখ হাসিনাকেও নয়: ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি বলে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ দখলে নেব, গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নেব। সংবিধানের মধ্য থেকে ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ শাসন করব।

আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তলন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, উমুকের সন্তান, কন্যা হলেই তো রাজত্ব করতে পারে না। এটা আমাকে অনেকেই বলেন। এখানে যে পিয়ন বসে আছেন সেও দেশের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ অসহায় বোধ করছে। কারণ তারা দেশের মালিক হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। বঙ্গবন্ধু যেখানে স্বাক্ষর করে গেছেন। আজকে এটা জাদুঘরে রাখা হয়েছে। আমি জানাতে চাই, জনগণ ৫৫ হাজার বর্গ মাইলের ক্ষমতার মালিক। এই স্বাধীনতার জন্য দেশের জনগণ যুদ্ধ করেছিল।

একটা দিন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে মালিকানা দিবস পালনেরও আহ্বান জানান কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, সরকার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা জনসভা করলে লোক পাবেন না। আমি অসম্ভব বলছি না। সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে কিছু লোক জড়ো করতে পারবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, গতকাল জনগণ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে আপনাদের থাপ্পর মেরেছে। বলে দিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিহাস কোনো দল বা ব্যক্তির করে নিতে পারবে না। ক্ষমতায় যারা আছেন তারা চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে।

তিনি বলেন, গতকাল ঢাকা সিটি নির্বাচনে কি দেখলাম, মানুষ ভোটে যায়নি। জনগণ বলে দিয়েছে, তোমরা ডাকাত তোমাদের অধীনে ভোট করতে চাই না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আসম রবের উজ্জল ভুমিকা ছিল। তিনি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সিরাজুল আলম খানকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না। আজকে তাজউদ্দিন আহমদকে বাদ দিয়ে কি ইতিহাস লিখা যাবে? যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন থেকে ড. কামাল হোসেন পুরো সময়টা তার সঙ্গে ছিলেন। তাকে বাদ দেয়া যাবে?

আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরান সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্প ধারার সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

জেএসডির প্রসেডিয়াম সদস্য শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন