ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শপথ নিলেন সুলতান মনসুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: সব জল্পনা-কল্পনা শেষে একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মাদ মনসুর আহমদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সুলতান মনসুরকে শপথবাক্য পাঠ করান।

তবে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত আরেক সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান ‘অনিবার্য কারণবশত’ বৃহস্পতিবার শপথ নেননি।

বুধবার গণফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গণফোরামের নির্বাচনী প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান অনিবার্য কারণবশত বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন না।’

মোকাব্বির খান বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার শপথ অনুষ্ঠান কয়েক দিনের জন্য পেছানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন সময়সূচি জানানোর কথা বলেন তিনি।

এ সময় মোকাব্বির দাবি করেন, ড. কামাল হোসেনসহ বৈঠকে উপস্থিত বেশিরভাগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তার শপথ নেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।

মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমাদের নেতারা বিষয়টি নিয়ে এখন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্য পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং পরবর্তী সময়ে শপথ অনুষ্ঠানের নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে।’

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ও সিলেট-২ থেকে মোকাব্বির খান উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন।

এদিকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান এমপি হিসেবে শপথ নিলে সাংগঠনিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত রবিবার বিকেলে গণফোরামের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের দুই সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিলে বিএনপির গঠনতন্ত্র এবং ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা শুনেছি তারা অংশগ্রহণ করবে। যখন করবে তখন আমাদের যে বিধিবিধান আছে, আমাদের দলের যে বিধিবিধান আছে এবং ঐক্যফ্রন্টের যে সিদ্ধান্ত আছে সে প্রেক্ষাপটে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইন কী বলে?
দলীয় নির্দেশ না মেনে শপথ নেওয়ায় আলোচনা হচ্ছে যে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে অথবা তাদেরকে যদি দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাহলে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না অথবা ওই আসন শূন্য ঘোষণা করবে কিনা নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্পিকারের কাছে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের। মোকাব্বির খানেরও আজ শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও নেননি। তবে তিনি পরে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-

(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা

(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম বলেন, যদি কেউ দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসনটি শূন্য হবে। এর বাইরে আর সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু বলার নেই।

কবিতা খানম বলেন, পদত্যাগ না করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি শপথ গ্রহণ করেন। সেজন্য যদি দল তাকে বহিষ্কার করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে এখানে আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।

নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তবে স্পিকার চাইলে যুক্তিসঙ্গত কারণে সময় বাড়াতে পারেন। আর না বাড়ালে শূন্য ঘোষণা হওয়ার পর পুনরায় আবার সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সদস্যরা শপথ না নিলে ইসির কিছুই করার নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য শপথ নিলে কী হবে না হবে তা ঠিক করবে সংসদ সচিবালয়।