সুলতান মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার, ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি থেকেও অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পৃথক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরে বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু।

মন্টু বলেন, গণফোরামের নীতিবিরোধী, আদর্শবিরোধী, জনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সুলতান মনসুরের গণফোরামের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হলো এবং গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হলো। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হলো।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা জাতির কাছে যে ওয়াদা করেছি তা রাখতে পারিনি। এজন্য আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর। তিনি মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরামের অপর সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানেরও আজ শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তিনি শপথ নেননি।

বিএনপি ও গণফোরামসহ তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি, অনিয়ম ও একতরফা নির্বাচনের’ অভিযোগ এনে ওই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন সাংসদও একাদশ সংসদে যোগদান না করার বিষয়ে অনড় রয়েছেন।

এদিকে এর আগেই জানানো হয়েছিল, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান এমপি হিসেবে শপথ নিলে সাংগঠনিক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত রবিবার বিকেলে গণফোরামের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের দুই সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিলে বিএনপির গঠনতন্ত্র এবং ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা শুনেছি তারা অংশগ্রহণ করবে। যখন করবে তখন আমাদের যে বিধিবিধান আছে, আমাদের দলের যে বিধিবিধান আছে এবং ঐক্যফ্রন্টের যে সিদ্ধান্ত আছে সে প্রেক্ষাপটে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইন কী বলে?
দলীয় নির্দেশ না মেনে শপথ নেওয়ায় আলোচনা হচ্ছে যে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলে অথবা তাদেরকে যদি দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাহলে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না অথবা ওই আসন শূন্য ঘোষণা করবে কিনা নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় স্পিকারের কাছে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের। মোকাব্বির খানেরও আজ শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও নেননি। তবে তিনি পরে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-

(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা

(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,

তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম বলেন, যদি কেউ দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসনটি শূন্য হবে। এর বাইরে আর সংবিধানে স্পষ্ট করে কিছু বলার নেই।

কবিতা খানম বলেন, পদত্যাগ না করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি শপথ গ্রহণ করেন। সেজন্য যদি দল তাকে বহিষ্কার করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে এখানে আইনে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।

নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তবে স্পিকার চাইলে যুক্তিসঙ্গত কারণে সময় বাড়াতে পারেন। আর না বাড়ালে শূন্য ঘোষণা হওয়ার পর পুনরায় আবার সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সদস্যরা শপথ না নিলে ইসির কিছুই করার নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য শপথ নিলে কী হবে না হবে তা ঠিক করবে সংসদ সচিবালয়।