আল্লাহর সঙ্গে আমার সরাসরি সংযোগ ঘটছে যা খ্রিস্টধর্মে ছিল না: মার্কিন নারী

জেসিকা জোকসন ক্ল্যারমন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাকরামিন্টু: জেসিকা জোকসন ক্ল্যারমন্ট (৩৫)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তিনি খ্রিস্টীয় ক্যাথলিক ধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হন।

জেসিকা জোকসন ক্ল্যারমন্ট বলেন, ‘আমি একটি ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছি এবং বেড়ে ওঠার সেই সময় থেকেই আমি অনুভব করতে থাকি আমার সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই না। এসকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি কখনো আল্লাহর সঙ্গে আমার সরাসরি সংযোগের বিষয়টি অনুভব করতাম না।’

‘আমি অনুভব করতাম যে, আল্লাহ হচ্ছে একটি বিশাল ধারণা যা আমার বিশ্বাসে ছিল কিন্তু এটি কিভাবে আমার সঙ্গে সম্পর্কিত তা আমি ওইসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কখনো খুঁজে পাইনি। উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি, রোমান ক্যাথলিক চার্চে মানুষ অন্য লোকদের সামনে ধর্ম চর্চা করত কিন্তু সেখানে একজন ব্যক্তির জন্য আল্লাহকে একান্তভাবে স্মরণের অন্য কোনো উপায় ছিল না। যেকারণে ওই সব আচার-অনুষ্ঠান আমাকে টানত না।’

‘অন্যদিকে, ইসলামে আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অনেক বেশি ব্যক্তিগত, অনেক বেশি নিবিড় কারণ ইসলামের প্রচলিত ধর্ম-কর্মের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। যেমন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রমজান মাসে রোজা পালনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিবিড়ভাবে আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারে।’

‘আল্লাহর নিকট আমার সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেই দায়ী এবং ইসলামের প্রচলিত ধর্মানুষ্ঠান পালন এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের দ্বারা আমি আমার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করছি। আমি এখন ধর্ম-কর্ম পালনের জন্য খ্রিস্ট ধর্মের মতো একজন যাজকের উপর নির্ভরশীল নই। ইসলামের এসকল ধর্ম-কর্ম আমি একান্ত ব্যক্তিগতভাবেই পালন করতে পারি এবং এতে আল্লাহর সঙ্গে আমার সরাসরি সংযোগও ঘটছে যা আমার পূর্ববর্তী ধর্মে ছিল না। আল্লাহকে অবিরাম স্মরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অনিবার্যভাবেই ধীরে ধীরে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। এভাবেই আল্লাহর সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে।’

‘আমি আমার প্রভুর নিকট অনেক বেশি কৃতজ্ঞ এবং কৃতজ্ঞতার সেই বোধটি এখন আমি বেশ ভালভাবেই অনুভব করতে পারি। সামগ্রিকভাবে শুধু সৌন্দর্য, আশীর্বাদ এবং জ্ঞান যা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন; এগুলোর কথা চিন্তা করলেও স্বাভাবিকভাবেই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার বোধ জন্মে।’

‘আমি মনে করি যে, আল্লার সঙ্গে আমার সংযোগ শুধু শুক্রবারের জুম্মা কিংবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আল্লাহকে স্মরণ এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য ইসলামে অগণিত সুযোগ রয়েছে এবং আমি সেগুলোই করছি।’

হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।