মায়ের লাশ পোড়ানোর বীভৎসদৃশ্য দেখে ইসলাম গ্রহণ জিবন চক্রবর্তীর

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: যশোহর জেলার এক অধিবাসী শ্রী জিবন চক্রবর্তী, পিতা গৌতম চক্রবর্তী। ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটনের ১ম শ্রেনী মেজিস্ট্রেটের নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বর্তমান নাম মোঃ আশিকুল ইসলাম। তার ইসলাম গ্রহণের এক মর্মস্পর্শ কাহিনী বর্ণনা করেছেন তিনি নিজেই।

নওমুসলিম মোঃ আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ব্রাহ্মণ ছিলাম এবং আমার আম্মা সর্বদা পর্দা পালন করত। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মই পর্দা পালন করে তা নয়, অন্যান্য ধর্মেও পর্দা আছে যেমন খৃষ্টান ধর্ম। রাস্তা-ঘাটে চলতে গেলেও আমার আম্মা পর্দা যথাযথভাবে পালন করতেন।’

‘১৯৯২ সালের ৮ই জানুয়ারী আম্মা মারা যান যখন আমি ৯ম শ্রেণীর ছাত্র। অনুশাসন মোতাবেক আম্মার অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।’

‘চিতায় রেখে প্রথা অনুসারে প্রথমে আমার বড় ভাই তার মুখে আগুন ধরিয়ে দিলে মার কাপড় সংগে সংগে পুড়ে যায়। যার ফলে সমস্ত শরীরের যাবতীয় অংগ প্রত্যংগ বিশ্রীভাবে ফুটে ওঠে যা বর্ণনাতীত। তখন আমার মনে প্রচণ্ড ঘৃণার উদ্রেক হয়। যিনি জীবনে কখনও অপরকে নিজের শরীর দেখাননি আজ কিনা মারা যাবার পর পরিচিত অপরিচিত সবার সম্মুখে এমন অশ্লীলভাবে তার পবিত্র শরীরের অবয়ব ফুটে উঠল। এটা কোন্ ধর্ম, এ কেমন অসভ্য রীতি?’

‘এতে আমার কিশোর মনে দারুণ আঘাত হানে, ধীরে ধীরে আমি সমস্ত কিছুর ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ি। মনের মধ্যে অনেক কৌতুহল দানা বেধে ওঠে।’

‘বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পড়াশুনার এক পর্যায়ে আমি খেয়াল করি যে ইসলাম ধর্মে মৃত ব্যক্তিকে অতি সম্মানের সহিত (ছেলে বা মেয়ে যেই হোক না কেনো) কাপড় দিয়ে ঢেকে দাফন করা হয়।’

‘ধীরে ধীরে আমি ইসলামের আরো অনেক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে পড়ি এবং অবশেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।