রোহিঙ্গা পাশে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি

রোহিঙ্গা পাশে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: মায়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের পৈশাচিক নির্যাতনের বর্ণনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসে সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

নির্যাতনের বর্ণনা করতে গিয়ে এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রোহিঙ্গারা। তাদের আর্তনাদ দেখে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমও কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তুরস্কের এই নেতা রেহিঙ্গাদের ধৈর্য করার পরামর্শ দেন।

রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে মায়ানমারে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও আশ্বস্ত করেন বিনালি ইলদিরিম।

রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের মুখে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মাটিতে বসে পড়েন তুরস্কের এই নেতা। তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে রোহিঙ্গাদের কথা শোনেন।

এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাসহ ৩০ জন প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে তিনি সড়ক পথে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে প্রথমে উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্প-১-এ যান। সেখানে তিনি তুরস্ক সরকারের একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে উখিয়ার শফিউল্লাহকাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের পক্ষে রান্না করা খাবার ও নন ফুড আইটেম বিতরণ করেন।

পরিদর্শন শেষে বিনালি ইলদিরিম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘বর্বর নির্যাতনের শিকার অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই বিরল।’ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহ্বান জানান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং স্মারক হিসেবে একটি চারাগাছ রোপণ করেন। এছাড়াও তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোহিঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

‘কোনো সন্দেহ নেই, এটা জাতিগত নিধন’
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, ‘ওই এলাকায় (মিয়ানমারের রাখাইনে) কী হচ্ছে সে ব্যাপারে জাতিসংঘকে আরো বেশি নজর দিতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই, এটা জাতিগত নিধন।’

আজ বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে তুরস্কের ৩০ জনের প্রতিনিধিদল ছিলেন।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বেলা ১১টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সরাসরি যান উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। দুপুর ১২টায় ওই এলাকায় পৌঁছান তিনি। এরপর সেখানে মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন।

রোহিঙ্গাদের পাশে বিনালি

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন বিনালি ইলদিরিম। কুতুপালং ক্যাম্পেও যান তিনি। সেখানে রোহিঙ্গাদের খাবার বিতরণ করেন তিনি।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো এবং নিরাপদে বসবাসের জন্য আন্তর্জাতিক সব মহলকে একযোগে কাজ করা জরুরি।’

ইলদিরিম বলেন, ‘আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে তুরস্ক। এটি একটি মানবিক ইস্যু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তাঁদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ফেরত পাঠানো ও নিরাপত্তার ব্যাপারে জাতিসংঘকে আরো কাজ করতে হবে।’

এ সময় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

গত সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পরস্পরকে সমর্থন করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

একই দিন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম। ওই বৈঠকেও তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।