রাত পোহালেই রসিকে হারজিতের লড়াই

রাত পোহালেই রসিকে হারজিতের লড়াই

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ভোটের সরঞ্জাম। এখন শুধু ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

রংপুর সিটি নির্বাচনে ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৮টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সব কেন্দ্রেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ভোটগ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের খুঁজছে পুলিশ। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

এদিকে, প্রচারণা শেষে বহিরাগত নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

রংপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ১০ জন পুলিশ ও ১৪ জন আনসার সদস্য থাকবেন।

তিনি বলেন, মোট ৩৩টি ওয়ার্ডেই একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। অতিরিক্ত ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে। সব মিলে পাঁচ সহস্রাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটের মাঠে থাকবে।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এখন নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো রংপুর মহানগরী।’

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চেক পোস্ট বসিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক যানবাহন আটক করেছে পুলিশ।

কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম যানবাহন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার পৃথকভাবে আলাপকালে তিন আলোচিত মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের নৌকার ঝন্টু, জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের মোস্তফা ও বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী বাবলা ভোটের আগের রাতে নানারকম কথা বলেন, পাঠকদের জন্য চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলঃ

রংপুরের মানুষ মফিজ হয়ে থাকতে চায় না: ঝন্টু
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু বলেছেন, রংপুরের মানুষ আর মফিজ হয়ে থাকতে চায় না। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাকে বিজয়ী করে লাঙলকে রংপুর থেকে বিতাড়িত করবে।

তিনি আরো বলেন, নৌকা শেখ হাসিনার প্রতীক। এই প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আমি। ইতোপূর্বে লাঙল মানুষের কাছ থেকে শুধু ভোট নিয়েছে, উন্নয়নের জন্য কোনো কিছুই করেনি। রংপুর শহরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, শেখ হাসিনার আমলেই হয়েছে। তাই এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য নৌকায় ভোট দেয়া ছাড়া মানুষ আর কোনো বিকল্প ভাবেন না।

নৌকা মার্কার প্রার্থী আরো বলেন, বিএনপিকে মানুষ আগেই রংপুরের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করেছে। আর এখন আছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেব। তিনি বিরোধী দলেও আছেন সরকারি দলেও আছেন। তবে রাজনীতির মাঠে তিনি রংপুরের নির্বাচনে আমাদের এন্টি পার্টি। লাঙলকে বিতাড়িত করে নৌকাকে বিজয়ী করবে রংপুরের মানুষ। রংপুরের মানুষ আর ভুল করতে চায় না।

আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: মোস্তফা
জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন,আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে বলে আমরা শুনছি। ভোট কেন্দ্রে যদি কোনো পক্ষ লাঙ্গলের বিজয় ঠেকাতে ঝামেলা করার চেষ্টা করে তাহলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে। এতে মামলা মোকদ্দমা, জেল জুলুম সব আমি সামলাবো। আমরা কোনো ছাড় দেবো না।

তিনি আরো বলেন, লাঙ্গল এবং মোস্তফার পক্ষে আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমার কর্মী সমর্থক ভোটাররারা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রদানের পাশাপাশি কেন্দ্রে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে থাকবেন।

লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা বলেন, আল্লাহর রহমতে বিশাল ভোটের ব্যবধানে লাঙ্গল প্রতীক এখানে জয়ী হবে। যা জাতীয় পার্টিকে সারাদেশ এবং বিশ্বে উচ্চাসনে নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য ২০১২ সালের নির্বাচনে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন: বাবলা
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনই বলছে ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৮ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যেমন একাট্টা। ঠিক তেমনি রংপুর সিটি করপোরেশনের মানুষও একাট্টা। তারা ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বাবলা আরো বলেন, আমরা বার বার বলেছি, সেনাবহিনী মোতায়েন করা হোক। কিন্তু সরকার ধানের শীষের ভয়ে ভীত হয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেনি। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আমরা সংশয় প্রকাশ করে এসেছি। এখনও করছি। এই নির্বাচনটি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাল্লাহ।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের প্রথম নির্বাচনে ২০ হাজারেরও কিছু বেশি ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন কাওছার জামান বাবলা। অবশ্য আগের দিন তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।