লিন্ডসে লোহানের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্ক: মার্কিন সংগীত শিল্পী ও অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে বিশ্ব মিডিয়ায় শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে চলছে সব ধরণের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হৈ চৈ।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণও অবশ্য ব্যাখা করা হয়েছে, লোহান তার অফিসিয়াল টুইটার ও ইন্সটাগ্রামে নিজের ছবির পরিবর্তে বায়োগ্রাফিতে ইংরেজিতে লিখেছেন ‘আলাইকুম সালাম বা Alaikum salam’।

আর এই লেখার রেশ ধরে সারাবিশ্বের শোবিজে এ খবর বাতাসের আগে আগে রটে গেছে। এতেই গণমাধ্যমগুলো ধারণা করছে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিবর্তন এনেছেন লোহান।

এছাড়া ২০১৫ সালে একবার কোরআন শরীফ হাতে লিন্ডসে লোহানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তখন এর ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেছিলেন, সৌদি বন্ধুরা এটি উপহার হিসেবে তাকে দিয়েছে। গত বছর অক্টোবরে লিন্ডসে যখন তুরস্কে সিরিয়ার শরণার্থীদের একটি শিবির পরিদর্শনে যান তখন তিনি হিজাব পরিহিত ছিলেন।

গত বছর তুর্কি টেলিভিশনের একটি টকশোতে লোহান কোরআন শরীফ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘এটি আমার জন্য আধ্যাত্মিকতা জগতের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, যাতে আমি আরেকটি সত্যকে খুঁজে পেয়েছি। এটাই সেই আমি।’

পবিত্র কোরআন হাতে ওই ছবিটির জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন লোহান। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকায় তারা আমাকে এর জন্য কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের কাছে শয়তানের মতো করে উপস্থাপন করেছে। কোরআন হাতে ধরায় তাদের কাছে আমি খারাপ মানুষে পরিণত হয়েছি।’

তবে লোহানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পুরো বিষয়টি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছু সময়।

সম্প্রতি লোহান দুবাই সফর করেন। সেখানে তিনি নতুন জীবন শুরু করার প্রেরণা খুঁজতে যান। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি মুছে ফেলা হয়। এসব কিছুর পর ভক্তরা ভাবতে শুরু করেন হয়তো লোহান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কিন্তু অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এরপর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত এ তারকাকে ইসলাম ধর্মে স্বাগত জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের এ তারকা মাদক গ্রহণের জন্য বিতর্কিত। বর্তমানে ষষ্ঠবারের মতো মাদকাসক্ত থেকে পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, লোহান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি।

সূত্র: মিরর

হিজাবে স্বস্তিবোধ করি: লিন্ডসে লোহান
‘মিন গার্লস’ খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহান সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে ‘বর্ণবাদী আচরণের’ শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ টেলিভিশন শো ‘গুড মর্নিং ব্রিটেনকে’- এমনটাই জানিয়েছেন লোহান।

লোহান জানান, তুরস্ক থেকে নিউইয়র্কে ফেরার পথে একটি ফ্লাইটে হিথ্রো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা তার হিজাব খুলে ফেলার জন্য অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমিস্কার্ফ পরিহিত অবস্থায় ছিলাম এবং বিমানবন্দরে আমাকে থামানো হয়। আমার জীবনে প্রথমবারের মতো আমি বর্ণবাদী আচরণ শিকার হই।’

তিনি আরো বলেন,’আমি আমার পাসপোর্ট দেখালে তারা আমার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু তারপরে আমাকে বলেন, ‘দয়া করে আপনার মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলতে হবে’।’

লোহান জানান,এ ধরনের হস্তক্ষেপে তিনি ভয় পেয়ে যান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘অন্য মহিলারা যারা তাদের হিজাব খুলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না; তাদের ক্ষেত্রে কি বিব্রত অবস্থা হবে?’

তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হচ্ছেন না এখনো বিশ্বাস নিয়ে অধ্যয়নরত আছেন- সেসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে লোহান জানান, ‘আমি দ্বিধান্বিত কিন্তু আমার সফর করা নির্দিষ্ট কিছু দেশের সম্মান বাইরে অন্য নারীদের মতো আমিও হিজাবে স্বস্তিবোধ করি। এটা আমার জন্য কেবলই একটি ব্যক্তিগত সম্মানের ব্যাপার।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান