বিটকয়েনের ব্যবহার ইসলামে নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কায়রো: ভার্চুয়াল মুদ্রা ‘বিটকয়েন’ ব্যবহারে ঝুঁকি থাকায় এবং এটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের একটি হাতিয়ারের পরিণত হওয়ায় ঝুঁকি থাকায় বিটকয়েনকে ইসলামি শরিয়াতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিশরের রিপাবলিকান মুফতি কাউন্সিলর ড. ম্যাগদি আশোর।

ভার্চুয়াল এই মুদ্রার ব্যবহার নিয়ে রবিবার মুফতি কাউন্সিলর ড. ম্যাগদি আশোর একটি ফতোয়া জারি করেছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘আর্থিক লেনদেনের জন্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করা উচিৎ নয় কারণ এটিতে মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সিবিই) আর্থিক আবরণ নেই। যার অর্থ এটির ব্যবহার বৈধ নয়।’

কাউন্সিলার আরো বলেন, ‘এই মুদ্রা সরাসরি সন্ত্রাসী অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়। এটির লেনদেন অর্থনীতির জন্য প্রধান ক্ষতির কারণ। এটির ব্যবহারে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম-নীতি না থাকায় ইসলামে এটি খারিজ হিসাবে বিবেচিত হয়। যেকারণে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

সম্প্রতি বিটকয়েন মুদ্রাটি আলোচনায় আসার কারণ মুদ্রাটির মূল্য হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। ফলে অনেকেই এই বিটকয়েন কেনার দিকে ঝুঁকছে। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।

বিটকয়েন হল ওপেন সোর্স ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিক’ প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মুদ্রা। বিটকয়েন লেনদেনের জন্য কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বা নিকাশ ঘরের প্রয়োজন হয় না।

২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি এই মুদ্রাব্যবস্থাকে পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেন নামে অভিহিত করেন।

বিটকয়েনের লেনদেনটি বিটকয়েন মাইনার নামে একটি সার্ভার কর্তৃক সুরক্ষিত থাকে। পিয়ার-টু-পিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকা একাধিক কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মধ্যে বিটকয়েন লেনদেন হলে এর কেন্দ্রীয় সার্ভার ব্যবহারকারীর লেজার হালনাগাদ করে দেয়। একটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে নতুন বিটকয়েন উৎপন্ন হয়। ২১৪০ সাল পর্যন্ত নতুন সৃষ্ট বিটকয়েনগুলো প্রত্যেক চার বছর পরপর অর্ধেকে নেমে আসবে। ২১৪০ সালের পর ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হয়ে গেলে আর কোন নতুন বিটকয়েন তৈরি করা হবে না।

যেহেতু বিটকয়েনের লেনদেন সম্পন্ন করতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পরে না এবং এর লেনদেনের গতিবিধি কোনভাবেই অনুসরণ করা যায় না তাই বিশ্বের বিভিন্ন যায়গায় বিটকয়েন ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৈধ পণ্য লেনদেন ছাড়াও মাদক চোরাচালান এবং অর্থপাচার কাজেও বিটকয়েনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বিটকয়েন ডিজিটাল কারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দর মারাত্মক ওঠানামা, দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায় এর সীমিত ব্যবহারের কারণে অনেকেই এর সমালোচনা করেন।

সূত্র: ইজেপ্ট টুডে