যেকারণে ব্যাপক হারে ইসলামের ছায়াতলে আসছেন নেপালিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাঠমন্ডু: নেপালিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে নেপালে মুসলিমদের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের স্টার পত্রিকা।

নেপালের ইসলামিক সোসাইটির প্রধান খোরশিদ আলমকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, গত ১৫ বছরে প্রায় এক লাখ নেপালি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

আসছে বছরগুলোতে ইসলাম গ্রহণের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি।

হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ায় এসব মানুষকে বহু বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে হিন্দু ও বৌদ্ধ উগ্রবাদীরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নেপালে ইসলাম গ্রহণের হার উল্লেখ্যযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন খোরশিদ আলম।

নেপালে মুসলিমরা সংখ্যালঘু। গত ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির ৪.৪ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। মুসলিমদের ৯৭ ভাগই থাকেন তেরাই অঞ্চলে। বাকিরা রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।


নেপালের মুসলিম ঐতিহ্য কাঠমান্ডু কেন্দ্রীয় মসজিদ

জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিম সংখ্যা লঘু দেশ নেপাল। দেশটির মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪.৪ মানুষ মুসলিম। সমগ্র দেশটিতে রয়েছে ৪৩০টি মসজিদ। দেশটির কেন্দ্রীয় মসজিদ রাজধানী কাঠমান্ডু রত্নাপার্ক সংলগ্ন।

কাঠমান্ডু কেন্দ্রীয় মসজিদটি নেপালের রাজ প্রাসাদের উত্তর পশ্চিম দিকে এবং নেপালের সবচেয়ে বড় জনসভার মাঠের দক্ষিণ পূর্ব কোনো অবস্থিত। প্রতি শুক্রবার মুসল্লীদের সমাগমে জুমআর নামাজ আদায়ে মসজিদ ও মাদরাসার বারান্দা কানায় কানায় ভরপুর হয়ে ওঠে।

মসজিদটির সঙ্গে তিনতলা বিশিষ্ট একটি মাদরাসাও অবস্থিত আছে। ৪তলা বিশিষ্ট মসজিদটির ভিতর অংশ অত্যাধুনিক কার্পেটে সুসজ্জিত।

মসজিদটির বাম কোনো মসজিদের সমান্তরাল একটি মিনার আছে। মসজিদের উত্তরে সুউচ্চ মূল মিনার রয়েছে।

মসজিদের পশ্চিম পাশদিয়ে রয়েছে নেপালের রাজপ্রাসাদের যাওয়ার প্রধান সড়ক। নেপালের এ মসজিদটি ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।


নেপালের মুসলিম ঐতিহ্য

নেপালে মুসলিম ঐতিহ্য
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ চেয়ে আছে নেপালি মুসলমান। প্রত্যাশায় আছে অতীত ঐতিহ্যমণ্ডিত জীবনধারা ফিরে পাবার। হারানো্ ঐতিহ্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে নেপালি মুসলমানদের।

নেপালে রয়েছে বেশকিছু মুসলিম নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। নেপালের সাবেক রাজপ্রাসাদ এখন জাদুঘর। এর খুব নিকটেই কাঠমান্ডু জামে মসজিদ। এরই এক কোনায় রয়েছে বেগম হযরত মহলের মাজার। অত্যন্ত অবহেলিতভাবেই পড়ে আছে এ সমাধিস্থল। এক সময় বেগম হযরত মহলের অনেক নাম ডাক ছিল। প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। হযরত মহল ছিলো ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশ বিরোধী সিপাহী বিদ্রোহের সূতিকাগার ভারতের তৎকালীন দেশীয় রাজ্য অযোধ্যার রানীর।

ব্রিটিশ শাসকরা তার বিদ্রোহ দমন করে। নির্যাতন চালায় অনেক মুসলমানের উপর। তখন বিদ্রোহী মুসলিমদের অনেক নেতৃবৃন্দ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বেগম হযরত মহলও দেশ ত্যাগ করেন। পালিয়ে যান ভারতের লক্ষ্ণৌ নগরী থেকে। তৎকালীন নেপালের শাসক জংবাহাদুর থাপা ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষ নেয়। সাহায্য করে ব্রিটিশ বাহিনী কেবি দ্রোহ দমনে এবং হযরত মহলের নিজ শহর ধ্বংস করতে। তবে জংবাহাদুর রানীকে রাজনৈতিক আশ্রয়দানের প্রস্তাব দেন। রানী নেপালে যান। হযরত মহলের সমর্থকরাও তার অনুগামী হয়। হিজরত করেন নেপালে।

নেপালে ইসলামের আগমন ঘটেছে এরও অনেক আগে। অতি প্রাচীন কাল থেকে এ উপমহাদেশের সঙ্গে মুসলমানদের যোগাযোগ ছিল। ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল।এসব এলাকা ঘুরে এঅঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থা ডায়েরিবদ্ধ করে গেছেন ধর্ম প্রচারে আগত অনেক মুসলিম পর্যটক।

১৫ শতক। তখন নেপালের রাজা রত্ম মাল্লার আমল। তখন কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের কাফেলা প্রথম কাঠমান্ডু আসে। কাঠমান্ডু হয়ে তিব্বতের রাজধানী লাসায় যাতায়াত শুরু করে।এদের অনেকেই তৎকালীন কান্তিপুর (বর্তমানেকাঠমান্ডু) ভক্তপুর ও ললিতপুরে থেকে যায়। শুরু করে স্থায়ীভাবে বসবাস। কাঠমান্ডুরাজপ্রাসাদ থেকে মাত্রকয়েকশ’ গজ দূরে একটি মসজিদ। ৫শ’ বছরের প্রাচীন কাশ্মীরি তাকিয়া মসজিদ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এখনো। এই মসজিদ ঐতিহাসিক সত্যের সাক্ষী।