কঠিন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, সৌদি জোটের পরবর্তী টার্গেট কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রিয়াদ: মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরিরিজম কোয়ালিশন’ (আইএমসিটিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ২৬ নভেম্বর। রিয়াদে ৪১টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের উপস্থিতিতেই এই উদ্বোধন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের উদ্বোধনী সভাটি ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিত্রতা’ থিমের আওতায়। আইএমসিটিসির মহাসচিব লে. জেনারেল আবদুল্লাহ আল-সালেহ বলেন, ‘এই সম্মেলন রিয়াদে আমাদের কেন্দ্রে আইএমসিটিসির কার্যক্রম সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
পাকিস্তান ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট জোটের সদস্য। তবে চলতি বছরের প্রথম দিকে আইএমসিটিসির কমান্ডার হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে নিয়োগ করা হলে পাকিস্তানের ভূমিকা পরিষ্কার হয়ে যায়।

এই জোটে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনেকবারই বলা হয়েছে, রিয়াদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বি তেহরানই হবে এর টার্গেট। পাকিস্তান যখন এই জোটে যোগ দিয়েছিল, তখন ইরান বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিল। অবশ্য পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে বলেছে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে সে তাতে অংশ হবে না। আদর্শগত, যোগাযোগ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ অর্থায়ন ও জঙ্গিবাদের মতো মূল ইস্যুগুলোতে কাজ করবে আইএমসিটিসি। এই জোট গঠনের মূল কারিগর হলেন ক্রাউন প্রিন্স মোহম্মদ বিন সালমান। তিনিই প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। লে. জেনারেল সালেহ জোটের রূপরেখা তুলে ধরবেন।

পাকিস্তানের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক পরিবর্তন আনার জন্য সুপরিচিত জেনারেল রাহিল শরিফ তার কমান্ডে থাকা আইএমসিটিসি সম্পর্কে বলেছেন, ২১ শতকে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সন্ত্রাসবাদের বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য মোকাবিলা করা।

এই চার তারকা জেনারেল সেনাপ্রধান থাকাকালে সাহসী নেতৃত্বের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, আদর্শগত, যোগাযোগ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ অর্থায়ন ও জঙ্গিবাদের মতো মূল ইস্যুগুলোতে আইএমসিটিসি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ পরিবর্তনশীল হয়ে পড়েছে। সৌদি-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এই জোটের সূচনাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। এই জোট ইরানবিরোধী হতে পারে বলে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল, তা পোক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছর রিয়াদ সামিটে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইয়েমেন এবং বর্তমানে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মঞ্চে উভয় দেশই প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে। রাজধানীতে ইয়েমেনের হাউছিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানকে সৌদি আরব দায়ী করলে তাদের মধ্যকার বৈরিতা আরো বৃদ্ধি পায়। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগ করলে উত্তেজনা আরেক দফা বাড়ে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রাধান্য রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুই দেশের মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধের নতুন মঞ্চ হতে যাচ্ছে লেবানন।

শক্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইরান। তাছাড়া বৈরুতের প্রতিও পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, ইরান এবং এর মিত্ররা আইএসআইএস’র পরাজয়ের কথা ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে নতুন এই জোটের এখন টার্গেট কী হবে?

এ ক্ষেত্রে যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, ট্রাম্পের সুস্পষ্টভাবে ঘোষিত ইরানবিরোধী নীতিতে বলীয়ান হয়ে আইএমসিটিসি সম্ভবত তেহরান এবং এই অঞ্চলে তার মিত্রদের আঘাত করবে। ইরাক ও সিরিয়া এবং সেইসাথে ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষাকারী কাতারে ব্যর্থ হয়ে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা লেবাননসহ অন্যান্য মঞ্চে ইরানের রক্তক্ষরণের চেষ্টা করবে। অবশ্য পর্যবেক্ষকেরা জানেন, ইরানের প্রক্সি যুদ্ধের জাল বেশ গোছানো এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মতো ভালো অবস্থায় আছে তারা।

এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, পাকিস্তান টান টান করে বাঁধা দড়ির উপর দিয়ে হাঁটছে। বৈরিতার ক্ষেত্রে সে নিরপেক্ষ রয়েছে। ইরানের সাথে সম্পর্ক ঝালাই করার জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার সাম্প্রতিক তেহরান সফর ছিল বেশ নজরকাড়া।

কিন্তু পাকিস্তান কিভাবে এই জটিল ভারসাম্যপূর্ণ কাজটি বজায় রাখবে? পাকিস্তান সাম্প্রদায়িকবাদে নিমজ্জিত হওয়ার প্রবণতার মধ্যে থাকায় এই প্রশ্নের জবাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, পাকিস্তান বড় ধরনের গ্যাড়াকলে পড়ে গেছে।

সূত্র: এসএএম রিপোর্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।