ঢাকার ডেমরা থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীকে যেভাবে উদ্ধার করল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: এবার ঢাকার ডেমরার সাইনবোর্ড এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুসহ তিনজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ৩ সেপ্টেম্বর তারা বাংলাদেশে ঢোকে। তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা চলছিল।

এ ঘটনায় ওই বাসার আশ্রয়দাতা এবং তাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এনে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টার অভিযোগে এক দালালকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব–১০–এর অধিনায়ক মো. শাহাবুদ্দিন খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

রোহিঙ্গা তিনজন হলেন সেতারা বেগম (২৫), তার মেয়ে শাফিকা (৬) এবং জাহেদা বেগম (১৬)। আর আটক দুজন হলেন মোখলেছুর রহমান ও রাজু মোল্লা।

গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক মায়ানমার থেকে টেকনাফ, বান্দরবানসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সরকার তাদের টেকনাফে কয়েকটি অস্থায়ী শিবিরে থাকার ব্যবস্থা নেয়।

শাহাবুদ্দিন খান বলেন, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আজ আনুমানিক সকাল ছয়টার দিকে র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউছুল আজমের উপস্থিতিতে জনৈক মোখলেছুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এবং বাড়ির মালিক মোখলেছুর রহমানকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সেতারা বেগমের ছোট ভাই সলিমুল্লাহ তিন বছর আগে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় যান। আনুমানিক ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনে সলিমুল্লাহর সাথে জাহেদা বেগমের বিয়ে হয়। সেই থেকে জাহেদা সেতারার পরিবারের সাথেই থাকে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা প্রথমে টেকনাফের সোয়ানখালী নামক স্থানে অজ্ঞাত ব্যক্তির বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে তারা কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় বাসা ভাড়া নেয় এবং স্থানীয় হোটেলে সেতারা রান্না কারার কাজ নেয়।

আটক দালাল রাজু মোল্লার ভাতিজা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে জাহেদার স্বামী সলিমুল্লাহ মালয়েশিয়াতে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে সলিমুল্লাহ স্ত্রী, বোন ও ভাগনিকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে রাজু মোল্লাকে বলেন। বাংলাদেশি পাসপোর্ট করার জন্য ২৫ নভেম্বর তাদের রাজু মোল্লা কেরানীগঞ্জে নিয়ে আসেন। ২৮ নভেম্বর রাজু তাদের কেরানীগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ী এবং রায়েরবাগের পাসপোর্ট অফিসে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাদের ডেমরার সাইনবোর্ড এলাকার মোখলেছুর রহমানের বাসায় লুকিয়ে রাখেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজু মোল্লাকে ছয় মাসের ও মোখলেছুর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে সেতারা ও তার মেয়েকে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং জাহেদা বেগমকে জামতলী ক্যাম্পে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।