শোক না কাটতেই পদশূন্য ঘোষণা, কোথায় শ্রদ্ধা-ভালবাসা?

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: আনিসুল হকের মৃত্যুর শোক না কাটতেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সোমবার দুপুরে মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সপ্তাহ না যেতেই এ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনিসুল হকের স্ত্রীর নাম আসায় বিষয়টি আরো ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ব্যক্তির ইমেজ ও দলীয় কৌশলে আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে তিনি মারা যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতি দ্রুততার সাথে মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

অনেকের ধারণা ছিল, অন্তত আনিসুল হকের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় সপ্তাহ দুয়েক দেরিতে এমন প্রজ্ঞাপন আসতে পারে। কিন্তু সবার ধারণা পাল্টে দিয়ে দ্রুত মেয়র পদ শূণ্য ঘোষণা করা হল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেশের দুই বৃহৎ রাজনীতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনই চলছে জল্পনা-কল্পনা। সরকারের মেয়াদপূর্তির শেষ বছরে এসে এই নির্বাচন রাজনীতির ময়দান উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমতাবস্থায় আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক বা তার ছেলে নাভিদুল হক কিংবা এ পরিবারের কাউকেই মনোনয়ন দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরশীল সূত্র এমনই আভাস দিয়েছে।

২০১৫’র গত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আনিসুল হক। তার সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। তাদের মনোনয়ন না দিয়ে দলের বাইরে থেকে ব্যবসায়ি আনিসুল হককে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারও তেমন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৫’র গত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মত এবারও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। কিন্তু আভাস পাওয়া মতে আওয়ামী লীগের সমর্থক কিন্তু সক্রিয় রাজনীতি করেন না এমন কাউকে এবারও মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে কিন্তু রুবানা হক-ই সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। সেই হিসাবে রুবানা হকের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বেশ পরিচিত। তাছাড়া সজ্জন হিসেবে খ্যাতিও আছে তার। এছাড়া স্বামী আনিসুল হকের ইমেজ তো আছেই।

অন্যদিকে ২০১৫’র নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন হেভিওয়েট ব্যবসায়ি আবদুল আউয়াল মিন্টু। সঙ্গে তার ছেলেও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল বিএনপির প্রার্থী হন। নির্বাচনের দিন প্রথম প্রহরেই কারচুপির প্রতিবাদে সরে দাঁড়ান তাবিথ। তবে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নাম এসেছে মিন্টু পরিবারের। যার মধ্যে রয়েছে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তাবিথ আওয়ালও।

এমতাবস্থায় বিএনপি এই পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও আবদুল আউয়াল মিন্টু প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারিকে একটি ষড়যন্ত্র হিসাবেই দেখছেন। তিনি দাবি করেছেন সারা জীবন দেশে টাকা এনেছি, পাচার করব কখন? ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মিন্টু তাবিথের নাম প্রথম দিকে আছে, সেই সাথে বিএনপির ব্যবসায়ি অন্য নেতাদেরও নাম আসছে।

এছাড়া বিএনপির একডজন নেতার নাম আসছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের সভাপতি ও বিভিন্ন মামলায় মালয়েশিয়ায় পলাতক এমএ কাইয়ুমের নাম রয়েছে আলোচনায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ও মহানগরের সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার সহ অনেক নেতার নামও রয়েছে আলোচনায়।

২০১৫ সালের দুই প্রার্থীর কেউই দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেননি। এবার দুই দলকে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। কেননা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন আইনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান রয়েছে। তাই ডিএনসিসির এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মহড়াই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রংপুর, গাজীপুর ছাপিয়ে রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু হবে ঢাকা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কে হবেন দুই দলের প্রার্থী তার গুঞ্জন ঢাকা ছাড়িয়ে এখন গ্রাম-গঞ্জেও বিস্তার লাভ করেছে।

এদিকে আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসির সহকারী সচিব রাজীব আহসান জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৯০ দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়র পদে উপ নির্বাচন শেষ করতে হবে। কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অন্তত ৪৫ দিন হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।