প্রধানমন্ত্রীকে ২০ বছর ধরে রাশিয়ার ক্ষমতাসীন পুতিনের অভিনন্দন!

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। টানা তৃতীয়বারের মতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দেশের উন্নয়ন আরো গতি পাবে বলেও আশাবাদ জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন।

২০ বছর ধরে রাশিয়ার প্রধান পদে থাকা ভ্লাদিমির পুতিন সেই ব্যক্তি যিনি রাশিয়ার রাজনীতিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন যে, কোনো বিরোধী পক্ষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।

১৯৯৯ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিৎসিন তাকে এই পদে এনেছিলেন। এর কয়েকমাস পর ইয়েলিৎসিন পদত্যাগ করলে অস্থায়ীভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছিলেন পুতিন। এরপর ২০০০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সেই সময় ছিল চার বছর করে। ফলে দুই মেয়াদে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন পুতিন। এরপর তার রাজনৈতিক সঙ্গী দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

পুতিন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন ১৯৭৫ সালে। আশির দশকে তিনি কেজিবি এজেন্ট হিসেবে জার্মানির ড্রেসডেনে কর্মরত ছিলেন। বার্লিন ওয়ালের পতনের পর রাশিয়ায় ফিরে গিয়ে বরিস ইয়েলৎসিনের ক্রেমলিনে প্রবেশ করেন তিনি। ইয়েলৎসিন তার উত্তরসূরি হিসেবে পুতিনের নাম ঘোষণা করলে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।

পুতিন সেই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ই প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়। ২০১২ সালে পুতিন আবারও প্রেসিডেন্ট হন।

এবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিশ্বের প্রধান ক্ষমতাধর ব্যক্তি পুতিন- ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার দায়িত্বে থাকবেন।

এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সংবিধানে যে নিয়ম আছে, তাতে ওই সময়ের পর আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন না পুতিন। অর্থাৎ প্রায় বিশ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতির প্রধান হয়ে আছেন পুতিন।

মস্কোভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়েন্স সিগার্ট বলেন, পুতিন রাশিয়ার রাজনীতিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন যে, কোনো বিরোধী পক্ষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি।

এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়ার ভেঙে পড়া অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে পুতিনের আমলে। যদিও পুতিনের অর্থনৈতিক নীতির কারণে সেটি হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি দেশ। ফলে একসময় দেশটি এমনিতেই উন্নতি করতে পারত। ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তাঁর পক্ষে গেছে। সেটিই তাঁর ক্ষমতার ভিত্তি। নব্বই পূর্ববর্তী সময়ে আবারও হয়ত ফিরে যেতে হতে পারে এমন আশঙ্কা আছে অনেকের মনে,’ -বলেন সিগার্ট।

এর আগে বুধবার ভারতের কংগ্রেস দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধিও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে ভারতীয় কংগ্রেস দলের নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক বার্তায় সামনের দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার আরো সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

গত রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে জয়লাভ করায় গত সোমবার শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এছাড়া অভিনন্দন জানিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও শ্রীলঙ্কা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম বাসসকে জানান, রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গতকাল মঙ্গলবার এক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ ও পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সৌদি বাদশাহ তাঁর বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রেস সচিব আরো জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ অপর এক বার্তায় দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আরো বলেন, আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি। বার্তায় কাতারের আমির বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেন।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৃথক পৃথকভাবে টেলিফোন করেন এবং রোববারে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের জন্য শেখ হাসিনা, তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান।’

প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য লঙ্কান প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

প্রেস সচিব আরো জানান, তিন নেতা আশা প্রকাশ করেন যে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ক ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে।