নির্বাচনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি: সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ভোটের আগের দিন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বাংলাদেশে অতীতে কোন নির্বাচনের আগে পরিবেশ এতোটা ‘শান্তিপূর্ণ’ ছিল না বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমিও তো একজন এ দেশের নাগরিক। তারপরেও আমি এই সপ্তাহে, গত পাঁচ-সাতদিন যাবত সারা দেশ ঘুরে যতটা অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, আমরা বিগত ৪৭ বছরে এতো একটা কাম এবং পিসফুল (শান্ত এবং শান্তিপূর্ণ) পরিবেশ কিন্তু আমরা দেখিনি।’

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অবশ্য বিরোধীদল বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্রমাগত অসন্তোষ প্রকাশ করছে।

শনিবার ঢাকার আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে সেনাপ্রধান নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেন।

জেনারেল আহমেদ বলেন যে তিনি প্রত্যেকটা ডিভিশন ভিজিট করেছেন এবং বিভিন্ন জেলায় গিয়েছেন।

‘আমি সেনাপ্রধান হিসেবে বলবো যে চমৎকার পরিবেশ। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে আমি যেটা দেখে এসেছি, কারণ আমি গত পাঁচ দিন যাবত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিজিট করেছি। এবং সেখানে অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশ আমি দেখেছি। সবাই আশ্বস্ত করেছে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এবার ইনশাল্লাহ নির্বাচন হবে,’ বলেন সেনাপ্রধান।

কোথাও ঝুঁকি আছে কি-না সেটা তিনি জানার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।

তিনি আরও জানান যে সীমান্ত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেনারেল আহমেদ বলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাসিন্দারা যেন নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সেজন্য সেনাবাহিনী ওইসব এলাকায় টহল দেবে।

‘কারণ আমরা অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, যখনই একটা ইলেকশন হয়ে যায়, যারা হেরে যায় তারা হলো সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমন করে। এ ব্যাপারে আমরা অনেক সতর্ক থাকব।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। বিগত বছরগুলোতে নির্বাচনের আগের দিন কিছু না কিছু সহিংসতা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘এবারও যে একদম হয় নাই তা না। বাট (কিন্তু) এটার সংখ্যা হলো খুবই কম।’

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী , পুলিশ, বিজিবি, র্যা ব, সিভিল প্রশাসন এবং আনসার – সবাই একটি টিম হিসেবে কাজ করছে।

সেনাপ্রধান বলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটাই – সেটা হলো কেউ যাতে ভয়-ভীতি দেখাতে না পারে।

তিনি জানান, জণগণের মধ্যে যাতে কোন ভয়-ভীতি কাজ না করে সেজন্য সেনাবাহিনীর টহল সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হবে।

মাঠে পুলিশের পরেই সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছে, একথা জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন বলেন, সারাদেশে এরই মধ্যে ৫০ হাজারের মতো সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে যাতে সেটি আরো বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।

‘আমরা প্রত্যেকটা ক্যান্টনমেন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা সদস্যদের স্ট্যান্ডবাই রেখেছি।’

ভোটারদের আশ্বস্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনার নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। আপনারা আপনাদের ভোটটা দেবেন, আমরা আশেপাশেই থাকবো। … আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করবো, যাতে কোন কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে।’