গুলশানে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে নেই ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনে ভরাডুবির কারণ, সহিংসতা, হামলা-মামলা, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়াসহ নানা অনিয়ম নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সকল প্রার্থীর অভিযোগপত্র নিয়ে বৈঠকে বসেন তারা।

ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে বিকাল ৩টায় নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ইতোমধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোটের গুরুতপূর্ণ নেতারা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

তবে জোটের শীর্ষনেতা ড. কামাল বৈঠকে আসেন নি।

তবে তিনি কেন হাজির হন নি, সে বিষয়ে কোনো নেতার বক্তব্যই পাওয়া যায়নি।

বৈঠকের আগে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য। তখন সেনাবাহিনী, বিডিআর, পিপিআর, পুলিশ সিভিল প্রশাসন আমাদের পক্ষে ছিল। ৫৪ সালে সব যুক্তফ্রন্টের পক্ষে ছিল।

এবারের নির্বাচন হলো ঘরের শত্রু বিভীষন। নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে, গায়ের জোরে কোনো নেতার ইচ্ছায় আন্দোলন হয় না।

আমরা এবার নির্বাচনে গিয়েছি জনগণকে সাথে নিয়ে। পৃথিবীতে কোনো স্বৈরাচারী সরকার যদি চিরস্থায়ী না হয়ে থাকে, তাহলে এই সরকারও টিকবে না। জনগণ উচিত জবাব দেবে।

নির্বাচনের ১৫ দিন আগে থেকেই গ্রেফতার, হুমকি, নির্যাতন, অফিসে আগুন লাগানো শুরু হয়। আমার এলাকায় কর্মীরা নির্বাচনের সময় বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আ স ম আব্দুর রব আরো বলেন, আমরা আজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিবো। ভোটের অনিয়ম জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের কাছে তুলে ধরবো। আমরা জনগণকে নিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিলাম এবং জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করবো।

বৈঠকে উপস্থিত আছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আসম আব্দুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনে বিএনপি ৫টি আসনে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম দুটি আসনে জয়ী হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে আমিনুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসেন হারুনুর রশীদ জয় পেয়েছেন।

গণফোরামের প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-২ আসনে মোকাব্বির খান ও মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মো. মনসুর জয়ী হন।