যেকারণে ঢাকায় আসছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ইলদিরিম

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। সফরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেন্টার থেকে এই এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিবেন বলে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, তার সফরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে যে সম্পর্ক রয়েছে তা ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও, আঞ্চলিক বিষয়, বিশেষত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মত বিনিময় করা হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বৈঠকের পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের পৈশাচিক নির্যাতন আর গণহত্যার মুখে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ইলদিরিম যেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারের নিয়োজিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার পাশাপাশি তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকেএ), তুর্কি দুর্যোগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এবং তুর্কি রেলিজিয়াস অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়। এরপর সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রাখাইনে ১০০ কিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।

৯২ শতাংশ রোহিঙ্গাই বলেছে, সেনা অভিযানের সময় তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে অথবা অন্যকে নিপীড়িত হতে দেখেছে। হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ ছাড়াও রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় অভিযানের সময় ডাকাতি ও লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার আর ধরপাকড় তো নিয়মিত ঘটনা ছিল। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পুলিশ আর সেনারা যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে যেত। এভাবে নিখোঁজ হওয়া অনেকেই এখনো পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি বলে জানায় রোহিঙ্গারা। এসব ছাড়াও কারফিউ এবং চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ তো ছিলই।

জেরুজালেম ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবো: এরদোগান
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

শুক্রবার কনোয়া রাজ্যের সেন্ট্রাল আনাতোলিয়া শহরে এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে জনতার উদ্দেশ্যে এরদোগান এই কথা বলেন।

দুই দিন আগে ইস্তাম্বুলে মুসলিম নেতাদের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, ‘এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য আমরা প্রথমত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে পেশ করব এবং যদি সেখানে কোনো ভেটো আসে, তাহলে আমরা জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে যাব।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় দেশটির হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এই কারণে নিরাপত্তা পরিষদে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত বাতিলের যেকোনো পদক্ষেপ বাধার সম্মুখীন হবে, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান-এই তিন ধর্মের মানুষের কাছেই জেরুজালেম অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। প্রাচীন এই শহরটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং কয়েক দশক ধরে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু মূলত এই স্থানটি ঘিরেই।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইহুদিবাদী দেশটি পূর্ব জেরুজালেম দখল করে এবং পরবর্তীতে এটিকে ইসরাইলের সঙ্গে একত্রিত করে। যদিও ইসরাইলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়নি।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গত কয়েক দশকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে ভঙ্গ করেছে এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ঐক্যমত্য হচ্ছে যে, শহরটির অবস্থা বজায় রাখতে ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্তে মুসলিম দেশসমূহের পাশাপাশি ইসরাইলের ঘনিষ্ট ইউরোপীয় মিত্ররাও কঠোর সমালোচনা করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর মুসলিম বিশ্বের নেতাদের মধ্যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

ইস্তাম্বুলে গত বুধবার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ সঙ্কট মোকাবেলায় যে জরুরি বৈঠকে বসেছিল, তা এরদোগানের আহ্বান ও তার নেতৃত্বেই। এরদোগান সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান। ওই সম্মেলনে পূর্ব জেরুজালেমকে সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

মুসলিম বিশ্বের সমালোচনা সম্পর্কে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ‘মাকর রিশন’কে দেয়া্ এক সাক্ষাত্কারে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকার জন্য যা ভাল ট্রাম্প সেটিই করেছেন।

রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রাইডম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন নিন্দা ও ঘোষণা সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটবেন না।’

সূত্র: আনাদুলো নিউজ এজেন্সি ও রয়টার্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।