তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদার বৈঠক

তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদার বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: হোটেল সোনারগাঁওয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপি চলে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি জেরুজালেম ও দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করেন খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। মঙ্গলবার দিনভর তিনি ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটান। সফরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেন্টার থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সফরে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নিবেন বলে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তার সফরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে যে সম্পর্ক রয়েছে তা ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও, আঞ্চলিক বিষয়, বিশেষত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মত বিনিময় করা হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বৈঠকের পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাবেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ জঙ্গিদের পৈশাচিক নির্যাতন আর গণহত্যার মুখে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ইলদিরিম যেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজারের নিয়োজিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেয়া আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার পাশাপাশি তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিআইকেএ), তুর্কি দুর্যোগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এবং তুর্কি রেলিজিয়াস অধিদপ্তরের কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়। এরপর সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে অভিযান শুরু করে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, রাখাইনে ১০০ কিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।

৯২ শতাংশ রোহিঙ্গাই বলেছে, সেনা অভিযানের সময় তারা চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছে অথবা অন্যকে নিপীড়িত হতে দেখেছে। হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগ ছাড়াও রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোয় অভিযানের সময় ডাকাতি ও লুটতরাজের ঘটনাও ঘটেছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার আর ধরপাকড় তো নিয়মিত ঘটনা ছিল। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পুলিশ আর সেনারা যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে যেত। এভাবে নিখোঁজ হওয়া অনেকেই এখনো পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি বলে জানায় রোহিঙ্গারা। এসব ছাড়াও কারফিউ এবং চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ তো ছিলই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।