কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ইংরেজি বর্ষবরণে নবীনদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও বিপুল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নতুন ইংরেজি বর্ষকে বরণ করছে রাজধানীবাসী। বরাবরের মতো এবারো রাজধানীতে বর্ষ বরণের কেন্দ্রস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা। রাত ১২টা ১মিনিট বাজতেই তরুণ-তরুণীরা নেচে-গেয়ে বর্ষবরণের উৎসবে অংশ নেয়। তবে বাহিরের লোকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তেমন কেউ ঢুকতে পারেনি।

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে রবিবার বিকাল থেকে পুলিশ আইডি কার্ড চেক করে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়। তবে, অনেকেই দুপুরের আগেই ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন এবং বর্ষবরণের উৎসবে শামিল হন।

রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে চলছে আগুনের খেলাও। কাউকে দেখা যায় আতশবাজি ফোটাতে, অনেকে হাজির হন ঢোল আর খোল-জুরির ঝংকার নিয়ে।

এদিকে, বর্ষবরণের উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ সদস্য সক্রিয় রয়েছে।

বিভিন্ন সড়কে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। গাড়িগুলো তল্লাশি করে দেখছে পুলিশ। বিকাল থেকেই তল্লাশির পাশাপাশি গাড়ির নম্বর লিখে রাখছে পুলিশ।

গুলশান-বনানী এলাকায় বিকেল ৪টার পর থেকে গুলশান-বনানী এলাকায় সব বিপনী বিতান বন্ধ হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগতভাবে বাসা বাড়ির ছাদের ওপর নয়, এবার চার দেয়ালের ভেতর থার্টি ফাস্টের অনুষ্ঠান পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। তিসি বলেছেন, এ জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে অবগত করতে হবে। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, থার্টিফার্স্ট উদযাপনে উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতিসাপেক্ষে চার দেয়ালের মধ্যে উদযাপন করা যাবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে বাসার ছাদেও উদযাপন করা যাবে না।

আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিরাপদ করতে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের ডিস্পোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিমের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গুলশান, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাত ৮টার পর বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি নীলক্ষেত ও শাহাবাগ—এই দুইটি পথ দিয়ে ঢুকতে পারবে।