বিএনপি চার দেওয়ালের ভেতরে, বড় শোডাউনে আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তি আজ। এদিনটিকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে। এবারও দিনটি ঘিরে বিএনপি গত বছরের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও পায়নি। কিন্তু সরকারি দল আওয়ামী লীগ রাজধানীর বনানী ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আলাদা দুটি বিজয় মিছিল ও সমাবেশে বড় শোডাউনের ঘোষণা দিয়েছে।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। অনুমতি না পেলে নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশের ঘোষণা দেয় দলটি। কিন্তু তাদেরকে উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে ডিএমপির পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়। এর আগে সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে কথা বলতে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির নেতারা। এ সময় ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আবদুস সালাম এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি)।

ডিএমপি উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ করার অনুমতি দিতে রাজি হয়নি বলে জানান শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের চিন্তা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় এর বাইরে নয়াপল্টনে সমাবেশের কথা বলা হয়েছিল তাতেও পুলিশ রাজি হয়নি। খোলা মাঠে সমাবেশ না করে চার দেওয়ালের মধ্যে যে কোনো সময় অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক আরো বলেন, এই মুহূর্তে বাইরে কর্মসূচি করা যাবে না। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে চাইলে আমরা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে করতে পারবো। এখন আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমপিকে জানানোর কথা বলে এসেছি।

শুক্রবার নয়াপল্টনে সমাবেশ করার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না এমন প্রশ্নে এ্যানী বলেন, আমরা নয়াপল্টনে সমাবেশ করার কথা বলেছিলাম। তবে রাস্তায় এই মুহূর্তে সমাবেশ না করতে ডিএমপি কমিশনার আমাদের অনুরোধ করেছেন।

এর আগে ৫ জানুয়ারি সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ডিএমপিকে চিঠি দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সেখানে এদিন বিএনপিকে নয়, সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি (বিইউআইপি) নামের একটি অখ্যাত নতুন দলকে।

এদিকে দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালনে শুক্রবার রাজধানীর দুটি জায়গায় বিজয় মিছিল ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ সমাবেশে বড় ধরণের শোডাউন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। একই কর্মসূচি পালিত হবে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটবিহীন চার বছর আগের সেই একতর্ফা নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ। এরপর থেকে প্রতি বছর দিনটিকে পাল্টাপাল্টি নাম দিয়ে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে বনানী পূজা মাঠে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সমাবেশ ও পরে বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনে সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও সাহসী পদক্ষেপের কারণেই ২০১৪ সালের এদিন বিএনপি-জামায়াত জোট চক্রের সংবিধানবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে দেশের জনগণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করে। অসীম সাহসে বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টাকে রুখে দিয়ে সংকট উত্তরণের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।’

চার বছর আগের ভোটে জিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলি ট্যানেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত মেগাপ্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অগ্রগতির এক অনন্য মাইলফলক।’