বিচার মানি তাল গাছটা আমার!

নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে মিলনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা উভয়েই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মিলনকে অনুপ্রেরণার এক আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এভাবে তারা ডা. মিলনের আত্মত্যাগ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক সুরে কথা বললেও মূলত বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। এ যেন সেই বহুল প্রচলিত প্রবাদের ন্যায়- বিচার মানি তাল গাছটা আমার।

শেখ হাসিনার বাণী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পেশাজীবী নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ ফিরে পায় ভোট ও ভাতের অধিকার।

সোমবার শামসুল আলম খান মিলনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. মিলন ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঘাতকদের গুলিতে শহিদ হন। খবর বাসসের

এ উপলক্ষে রবিবার দেয়া এক বাণীতে প্রথানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে যুবলীগ নেতা নূর হোসেন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অগণিত গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। অবশেষে স্বৈরশাসকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। তিনি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পেশাজীবী নেতা ডা. মিলনসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

খালেদা জিয়ার বাণী
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাস গিলে ফেলেছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা। গণতন্ত্রের শত্রুরা গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে।

শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে রবিবার দেয়া বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা অপহরণ করা হয়েছে। মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার হরণ করে অতীতের বাকশাল এখন নবসংস্করণে ভয়াল রুপ ধারণ করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্রকে মজবুত ভীতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। আর তাহলেই ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। গণতন্ত্রের জন্য তার এই সর্বোচ্চ আত্মদান এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সকল কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্র বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ডা. মিলন আমাদের অবিরাম প্রেরণার উৎস।

গণতন্ত্র আবারও গভীর খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

অন্যদিকে শহীদ ডাঃ মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও অনুরুপ বাণী দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।