হঠাৎ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আইনমন্ত্রী !

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি নিয়ে আলোচনা করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার বাসভবনে গেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আইনমন্ত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যান বলে জানা গেছে।

‘বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধি না থাকায় বিচার বিভাগ জিম্মি’
আপিল বিভাগ বলেছে, নিম্ন আদালতের কিছু বিচারক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যেত। এ বিধান না থাকায় বিচার বিভাগ জিম্মি হয়ে আছে।

এ সংক্রান্ত মামলা শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে আপিল বিভাগ এসব কথা বলে।

শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন এবং গেজেটটি আপিল বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে আপিল বিভাগ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মাসদার হোসেন মামলার অন্যান্য আদেশগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে, এটাও বাস্তবায়ন হবে। এটা বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে রয়েছে।

এপর্যায়ে আপিল বিভাগ বলে, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী এটা সরকারের কাজ।

আপিল বিভাগ বলে, কিছু বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রেসিডেন্টের দোহাই দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় সেগুলো ফেলে রাখছে। পাঁচ বছর ধরে বলে যাচ্ছি কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। আমাদের সর্বশেষ আদেশে বিধি প্রণয়ণের কথা বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার সেটিও করেননি।

শুনানিতে আপিল বিভাগ বলে, পর্যাপ্ত এজলাস না থাকায় নিম্ন আদালত ১৭০ জন বিচারক এক বেলা বিচারকাজে বসতে পারছেন না। এছাড়া যেসব অবকাঠামোগত (ম্যাজিস্ট্রেটি ভবন) সমস্যা রয়েছে সেগুলোর কাজও ধীরগতির ছাপ পরিলক্ষিত।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিলো। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

এ সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে আপিল বিভাগ বলেছিলো, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিলো ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।