হোয়াইট হাউসে তার কোনো বন্ধু নেই, থেরেসা মে’র আবিষ্কার

জুলিয়ান বোরগার: থেরেসা মে’কে এটি বলা কিছু নিম্নস্তরের অফিসিয়াল কাজ ছাড়া কিছুই নয় যে, তিনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন, তখন আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ‘সকল ভুল কারণের’ জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠে।

এটি অন্তত ঐতিহাসিক। আধুনিক সময়ে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের একজন প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ‘খিটখিটে মেজাজ’ দেখাতে পারেননি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবজ্ঞাপূর্ণ টুইটে মে’কে তার নিজের কাজে মনোযোগী হতে বলা হয়েছে।

২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারকে বলেছিল ‘ও ব্লেয়ার, কি করছ?’ উন্মুক্ত মাইক্রোফোনে তাদের এই কথোপকথন ধরা পড়েছিল। এতে দেখা গেছে, উভয়ের কেউ কাউকে যথেষ্ট সম্মান দেখায় নি। তবে, এটিকে অতন্তপক্ষে বন্ধুত্বপূর্ণ বলে ধরে নেয়া হয়েছিল। আমরা চার্চিল-রুজভেল্ট এবং রিগ্যান-থ্যাচারের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি।

মে’র টুইটার পরিচালনার অধিকার পেতে ট্রাম্প তাকে বিরক্ত করতে পারে না। তার অসম্মানজক বচনসমূহ সংশোধন করতে হবে।

হেয় করার অনেক স্তর রয়েছে; যা মে বুঝতে পারছেন না। এটা কেবল ব্যক্তিগতভাবেই হেয় করা হচ্ছে না, এটি রাজনৈতিকভাবেও বিষাক্ত।

একটি সফল সফরের কিংবা অন্তত ব্রেক্সিটের বেঁচে থাকার প্রত্যাশা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেছে। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে মে’র সফল যাত্রাকে একটি ‘অভ্যুত্থান’ হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের পুরোপুরি বের হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত দুই দেশকে একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করার অনুমতি দেয় না। তবে, ট্রাম্পের উষ্ণ কথাবার্তা এবং ট্রাম্প ও মের হ্যানশেক করা ছবিগুলো অন্তত একটি উৎসাহব্যাঞ্জক স্বরকে আঘাত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী মে’র ওয়াশিংটন সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্টেট ডিপার্টমেন্টকে সাহায্য করা এবং রাশিয়ার ওপর থেকে প্রেসিডেন্টের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া ঠেকাতে কংগ্রেসকে বুঝানো। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার ‘ফার্স্ট গ্যাজুয়েডিং’ কথার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের জন্য চাপ দেন।

এরপর থেকেই সম্পর্ক ক্রম অবনতির দিকে রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে ট্রাম্পের জল্পনার জন্য মে প্রেসিডেন্টের ওপর ক্ষুব্দ হয়েছিলেন। বুধবার যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী গোষ্ঠী কর্তৃক ছড়িয়ে দেয়া ইসলামোফোবিক ভিডিওগুলো নিয়ে ট্রাম্পের পুনরায় টুইটের জন্য তাকে ভৎসনা করতে পারা ছাড়া মে’র তেমন কিছু করার ছিল না এবং একই দিন রাতে তিনি ‘থিন-স্কিন’ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তীক্ষ্ণ প্রত্যুত্তর পেয়েছিলেন।

ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখতে মে কী করতে পারে? তিনি দৃঢ় হতে পারেন বা তিনি এটিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তিনি যে পন্থাই গ্রহণ করুন না কেন, স্বল্প মেয়াদে তার নিজেকে ট্রাম্প থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যদিকে, আশ্বস্তকর বানী প্রেরণ যা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য সব কিছুকে ঠিক করে দিবে।

প্রধান প্রধান বৈদেশিক নীতির বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মে’র প্রকাশ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিকে ট্রাম্প চান ধ্বংস করতে এবং অন্যদিকে, এটির উদ্ধার নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্য।

শেষ পর্যন্ত, মে’র শক্তিশালী কার্ড হিসেবে ইউরোপীয় সংহতিই প্রাধান্য পায়। একটি ট্রিপল প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিকরা ওয়াশিংটন যান।

উত্তর কোরিয়ায় যুদ্ধের পথ থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে ফেরানোর জন্য ইউরোপীয়রাও মরিয়া হয়ে ওঠেছে। ট্রাম্পের মারমুখো কথার জন্য এই যুদ্ধ ইতোমধ্য অনেকটা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

পরিহাসের বিষয় হল যে ইউরোপীয় ঐক্যমত্যের এরূপ উদ্দেশ্যকে ক্ষতিসাধনের জন্য মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর চ্যাম্পিয়নিং ব্রেক্সিটের খারাপ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইইউর সঙ্গে মতবিরোধ সৃষ্টি করা খিটখিটে ও চরম মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুলনামূলকভাবে গৌণ।

ট্রাম্পের জন্য কোনো প্রমাণিত প্রমাণ নেই যে তিনি যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের ব্যাপারে উৎসাহী। তিনি সৌদি আরব এবং চীনের মত একনায়কত্বের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী। একজন স্কটিশ মা হওয়ার কারণে তিনি মে তার নিজেকে যথেষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে তৈরি করতে পারেননি যে তিনি ব্রিক্সিটের পর ব্রিটেনকে একটি দ্রুত এবং অনুকূল বাণিজ্য চুক্তির দিকে নিয়ে যাবেন। এই ধরনের আলোচনায় অনমনীয় হওয়ার মাধম্যে তিনি তার পুরো রাজনৈতিক চেতনা তৈরি করেছেন।

সর্বশেষ প্রেসিডেন্টের টুইটে ইতোমধ্যেই এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, হোয়াইট হাউসে থেরেসা মে’র কোনো সঙ্গী বা বন্ধু নেই।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।